ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ চলছে। নিয়ম অনুযায়ী ইতোমধ্যে ঝিনাইদহ অংশে কয়েক’শ জমির মালিক অবকাঠামো বা জমির মূল্য ও ক্ষতিপূরণের টাকার চিঠি পেয়েছেন। কিন্তু টাকা তুলতে গিয়ে তারা নানা হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ সুযোগ নিয়ে কয়েকজন প্রতারক তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৪৮ কিলোমিটারের জমির অধিগ্রহণের টাকা তুলতে আসা প্রতারক চক্রের ৫ সদস্যকে আটক করে জেলা প্রশাসন। সে সময় ৫ জনের মধ্যে ৪ জনকে মুচলেকার মাধ্যমে খালাস দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় কালীগঞ্জ উপজেলার সরকারি ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের সুপারিশকালে তাদেরকে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ সাংবাদিকদেরকে অবগত করেন। এরই মাঝে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জিজ্ঞাসাবাদে অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণে ক্ষমতা প্রদর্শনকালে তাদেরকে আটক করা হয়। সেসময় নিজামউদ্দিন কিং নামে একজনকে এক মাসের সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মেহেদী হাসান। আটককৃতদের মধ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডু এলাকার মৃত খায়রুজ্জামানের ছেলে নিজামউদ্দিন কিংকে (৪০) দণ্ডবিধি ১৮৬০ সালের দালাল আইনে ১ মাসের সশ্রম কারাদণ্ডসহ নগদ পাঁচশত টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে সাত দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। সেসময় নাজিমুদ্দিন কিংয়ের দেয়া তথ্য মতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত চক্রের মূল হোতা, আটককৃত নাটোর লালপুরের আব্দুর রশিদের ছেলে মো.মতিয়ার (৩৮), একই জেলার বাঁশবাঘ গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বুলবুল (৩৭), ঝিনাইদহ পৌরসভার পাগলাকানাই এলাকার আলফাজ মাস্টারের ছেলে লিটুকে (৫০) মুচলেকা নিয়ে খালাস দেয়া হয়। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ জেলার বসতি এক ব্যক্তির জমি অধিগ্রহণের টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে পৌর এলাকার কাঞ্চননগরের ঠিকাদার আলমগীর পাগলাকানাইয়ের লিটুর মাধ্যমে প্রতারকচক্রের সাথে চুক্তি করে। জেলা প্রশাসনের এনডিসি তানভীর ইসলাম সাগর বলেন, এরা সবাই একই ধরনের প্রতারক। এই চক্র নানান প্রতারণায় জড়িত। সূত্র জানিয়েছে, প্রতারকদের মোবাইলে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির সুপারিশ, হোয়াসটঅ্যাপে অর্থনৈতিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। নিজামুদ্দিন কিং নিজের প্রভাব দেখাতে গিয়ে তিনি জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদকে বলেন, ‘কোন উপদেষ্টার ফোনই তিনি সব সময় রিসিভ করেন না, উপদেষ্টারা তার ফোন দিয়ে সিরিয়াল পায়না, তিনি তাদের ফোন রিসিভ করেন না, তিনি চাইলে রিসিভ হয় না চাইলে হয় না।’ এমন অসংলগ্ন কথাবার্তায় সন্দেহ হলে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, এ-সকল কাজে তারা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাবশালী নেতা ও সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্য করে। সেসময় তাদের সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নাম ও কথোপকথনের তালিকা দৃশ্যমান হয়। প্রতারক বুলবুলের মুঠোফোনে মতিয়ার রহমানের হোয়াটসঅ্যাপ ম্যাসেজে দেখা যায়, “পার্টনার প্রকল্প পরিচালক হতে চাই। প্রকল্পের নামঃ পার্টনার। জনাব, মনোতোষ সিকদার, পদবীঃ ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিপিডি), (উপ প্রকল্প পরিচালক), প্রকল্পের নামঃ পার্টনার, Programme on Agriculture and Rural Transformation for Neutrition Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh. কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, ফার্মগেট, ঢাকা। বর্তমানে একই প্রকল্পের (PARTNER) এ ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ডিপিডি) হিসেবে কর্মরত আছেন। ২১ তম বিসিএস। নিজ জেলাঃ পিরোজপুর।” এছাড়াও বুলবুলের মুঠোফোনে অগ্রণী ব্যাংক মৌচাক ব্রাঞ্চের ৫ কোটি টাকার একটি চেক পাওয়া যায়। যার, Branch no: 010274392, Check no: SBI 1251840 Account name: M.M. MOHIUDDIN KABIR MAHI, Account no: 0200022586444। ভ্রাম্যমাণ আদালতের পূর্ব মুহূর্তে নিজামুদ্দিন কিং নিজেসহ তার সাথে থাকা ব্যক্তিদের কথা বারবার উল্লেখ করেন, সেখানে তিনি সবাইকে অপরাধের সাথে জড়িত বলে উল্লেখ করেন। কিন্তু সঙ্গত কারণে মুচলেকার মাধ্যমে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়।