নিজস্ব প্রতিবেদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুরে বিরল প্রজাতির একটি হিমালয়ের গৃধিনী শকুন (হিমালয়ান গ্রিফন ভালচার) উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে মহেশপুর উপজেলার নাটিমা গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পাখিটি মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন মাঠের মধ্যে পড়ে থাকা বিশাল আকৃতির পাখিটিকে দেখতে পেয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। প্রথমে কেউ পাখিটিকে শনাক্ত করতে না পারলেও পরে এলাকায় বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী নাজমুল হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে পাখিটিকে হিমালয়ের গৃধিনী শকুন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর তিনি দ্রুত মহেশপুর বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার শফিকুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। রাত প্রায় ১০টার দিকে শকুনটি বন বিভাগের হেফাজতে নেয়া হয়। বুধবার সকালে উপজেলা প্রাশাসনকে অবহিত করা হলে মহেশপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে শকুনটির চিকিৎসা শুরু হয়। একই সঙ্গে খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শকুনটির চিকিৎসা চলছে। দুই দিনের মধ্যে সুস্থ হলে মহেশপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশেই মুক্ত করে দেওয়া হবে। তবে অবস্থার অবনতি হলে খুলনায় পাঠানো হবে। প্রকৃতিপ্রেমী নাজমুল হোসেন বলেন- ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে হিমালয় অঞ্চলে তীব্র শীতের কারণে এসব শকুন অনেক দূর পর্যন্ত বিচরণ করে। ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে খাবারের সংকটে পড়ে পাখিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে শকুনটিকে নিয়মিত মাংস খাওয়ানো হচ্ছে এবং সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া শকুনটির ডানা মেলে দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত এই প্রজাতির শকুনের ডানার বিস্তার ৮ থেকে ৯ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। সাদা মাথা ও ঘাড় এবং গাঢ় বাদামি দেহের কারণে এদের সহজেই শনাক্ত করা যায়।