বাঘারপাড়া (পৌর) প্রতিনিধি : যোহরের আযান শেষ হয়েছে মাত্র। তার আগেই বাঘারপাড়া পাইলট স্কুল মাঠে পৌছেছেন দূর থেকে আসা সাধারণ মুসল্লি ও দলীয় নেতা কর্মীরা। স্কুল মাঠে প্রিয় নেতার লাশবাহী গাড়ি দেখে সেখানে ছুটছেন সবাই। শেষ বারের মত মুখটা দেখার জন্য। চোখের জল বলে দেয় তাদের কতটা প্রিয় ছিল তাহের সিদ্দিকী। দরাজহাট ইউনিয়ন পরিষদের সতেরো বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। পরে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে। এভাবেই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে হাজারো মানুষের বিপদের সাথী আবু তাহের সিদ্দিকী। ধর্ম বর্ণ জাত পাত ভুলে সাধারণ মানুষের কাতারে মিশেছেন। তাই তিনি ছিলেন জনতার চেয়ারম্যান।
রোববার জোহরের নামাজের পর সরকারি পাইলট স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে আবু তাহের সিদ্দিকীকে সমাহিত করা হয়। আবু তাহের সিদ্দিকীর শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। প্রসঙ্গত, আবু তাহের সিদ্দিকী দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনি রোগে ভুগছিলেন। বছর তিনেক আগে তাঁর শরীরে একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। বিদেশে অধ্যায়নরত একমাত্র ছেলের কারনে নামাজে জানাজা দেরিতে অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে জানাজার পূর্বে স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য রাখেন সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার টিএস আইয়ুব, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল ইমরান, বাঘারপাড়া থানার ওসি মাহমুদুল হাসান,যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম, যশোর জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, বাঘারপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আব্দুল হাই মনা, যশোর চার আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজি, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল, ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী এ্যাডভোকেট বায়েজিদ হোসেন, সহকারি এ্যার্টনি জেনারেল নূরে আলম আলম সিদ্দিকী, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মশিয়ুর রহমানসহ এসময় জানাযায় উপস্থিত হন এলাকার রাজনৈতিক সামাজিক ব্যক্তিবর্গ। আবু তাহের সিদ্দিকীর মৃত্যুতে বাঘারপাড়াবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজার নামাজ পড়ান আবু তাহের সিদ্দিকীর ভাই বাঘারপাড়া কামিল মাদরাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা হায়দার আলী।