নিজস্ব প্রতিবেদক : অপহরণ মামলায় আসামি করে পুলিশি হয়রানি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা গ্রামের গৃহবধূ আন্না খাতুন। মঙ্গলবার সকালে প্রেস ক্লাব যশোর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় তিনি পুলিশি হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়,গত ৮ জানুয়ারি দোহাকুলা গ্রামের তসলিম আলম লিটন তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে শাহরিয়া মুন পাখিকে অপহরণের অভিযোগে বাঘারপাড়া থানায় মামলা করে। এতে আমি ও আমার স্বামী এবং ছেলে আহম্মেদ অন্তরকে আসামী করা হয়। পুলিশ এ মামলাকে পুজি করে প্রতিনিয়ত আমার পরিবারের সদস্যদেরকে মারমিট ও হয়রানি করছে। তিনি দাবি করেন, প্রকৃতপক্ষে তার ছেলে আহম্মেদ অন্তরের সথে মুন পাখির পারিবারিক যোগাযোগের সূত্রে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয় পরিবার তা মেনে নেয়নি। একপর্যায়ে মুন পাখি তাদের বাড়িতে এসে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে শর্তসাপেক্ষে মুন পাখিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে আন্না খাতুন আরও বলেন, গত ৩ ডিসেম্বর মুন পাখি আবার তাদের বাড়িতে আসে এবং পরে তার ছেলে আহম্মেদ অন্তরের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যায়। এরপর থেকে তাদের সথে ছেলের কোনো যোগাযোগ নেই। আমার ছেলে তাকে অপহরণ করেনি। তারপরও আমরা মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছি। মামলার পর থেকে বাঘারপাড়া থানা পুলিশ নিয়মিত তাদের বাড়িতে যাচ্ছে এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। মুন পাখিকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার স্বামী রবিউল ইসলাম ইতোমধ্যে জেল খেটেছেন বলেও উল্লেখ করেন এ গৃহবধু। এমনকি,গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে থানার উপপরিদর্শক প্রসেনজিৎ-এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বাড়িতে থাকা তার ছোট ছেলে বায়জিদকে বড় ছেলে অন্তরের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চায়। কিছু জানাতে না পারায় তাকে পুলিশ মারধর করে।