কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার সামনেই বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে সভা চলাকালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ পুলিশ সদস্যসহ বিএনপির দু’পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, কালীগঞ্জ থানার এ এস আই জাহিদ, কনষ্টেবল সেলিম হোসেন ও পিকলু হোসেন। তাদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১ জন আটক হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কালীগঞ্জ থানার গেট সম্মুখে বিএনপি অফিসে রাশেদ খানের আলোচনা সভা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খানের অফিসটিতে তার উপস্থিতিতেই নির্বাচন পরবর্তী সদরের মহারাজপুর ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা করছিল। সভা চলাকালে হঠাৎ করেই তাদের দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালায়। এ সময় সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালায়। তাদের হামলায় ৩ জন পুলিশ সদস্যসহ দু’পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা লুৎফুর রহমান লেন্টু জানান, রাশেদ খানের নেতৃত্বে পার্টি অফিসে আমাদের আলোচনা সভা চলছিল। এ সময় মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম তার সমর্থকদের নিয়ে অফিসের বাইরে অবস্থান নেয়। এতে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মাত্র।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনার সময়ে থানাতে তাবাসসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু তাহেরকে গ্রেফতারের বিষয়ে প্রেসব্রিফিং করছিলেন ঝিনাইদহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান। এ সময়ে থানার সামনে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে তাদের ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।