মারুফ কবীর : শুক্রবার ছিলো ১৬ রমজান। অর্ধেকের বেশি রোজা শেষ,তারপর ছুটির দিন হওয়ায় যশোরের ঈদ বাজারে ছিলো উপচে পড়া ভিড়। লোকে লোকারণ্য ছিলো বাজার। রীতিমত শহরের বাস্তাগুলোতে দীর্ঘ যানজট হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এরই মধ্যে বেশিরভাগ চাকুরিজীবীরা বেতন-বোনাস পেয়ে গেছেন। তার প্রভাব পড়েছে ঈদ বাজারে। ছিট কাপড়ের দোকানে ব্যস্ততা কিছুটা কম হলেও চরম ব্যস্ততার মধ্যে রাত-দিন এক করে কাজ করছেন টেইলার কারিগররা। থ্রি-পিসের দোকানে নারীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো,অন্যদিকে শাড়ির দোকানে সব বয়সি নারীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিলো বাচ্চাদের পোশাকের দোকানে। তাছাড়া জুতা-স্যান্ডেল, প্রসাধনীর দোকানে ছিলো চিরাচরিত ভিড়।
শুক্রবার সরেজমিনে যশোর শহরের শপিংমল, কাপুড়িয়াপট্টি, এইচ এমএম রোড, সিটি পাজা, জেস টাওয়ার , কালেক্টরেট মাসজিদ মার্কেট, মুজিব সড়ক মার্কেট ও পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে পোশাকের মান ও দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একইসাথে, পোশাকের দোকান ও শপিংমলে পুলিশি তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা।
সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান আজাদ বলেন- শুক্রবারে শপিংমলে ক্রেতাদের ব্যাপক সমাগম অনেক আনন্দের। বছরের এই সময়টায় বেচাকেনা হয় সর্বাধিক। ঈদ ঘনিয়ে আসায় ক্রেতারা কেনাকাটা দ্রুত সেরে নিচ্ছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা। মুজিব সড়কের রঙ ফ্যাশনের বিক্রয় কর্মী রহমান বলেন, সকালে কম থাকলেও বিকেলে ক্রেতার চাপ ছিল অনেক।
জেস টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমএ আকসাদ সিদ্দীকি শৈবাল বলেন- আমাদের শপিংমলে পোশাকের দোকান কম। তারপরও শুক্রবার চাপ ছিল প্রচুর।
কালেক্টরেট মাসজিদ মার্কেটের হ্যাভেন ড্রেসের প্রোপাইটর সুমন বলেন, আমাদের মার্কেটে সব শ্রেনির ক্রেতা আসেন। শুক্রবার হওয়ায় অন্যদিনে চেয়ে ক্রেতার চাপ ছিলো বেশি এবং বিক্রিও হয়েছে ভালো।
যশোর শহরের বড়বাজারে ছিট কাপড়ের দোকান জিকো কর্পোরেশনের বিক্রয় কর্মী আলী হোসেন বলেন, ছিট কাপড়ের বেচাকেনা ভোলো হচ্ছে।
কাপুড়িয়াপট্টির মডার্ন টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, ২০ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেয়া হবে। বিদ্যুতের সমস্য না হলে আশা করছি সময়মত পোশাকের ডেলিভারি দিতে পারবো। সাধারণত মানুষ আগে জামা কেনে, পরে যান জুতার দোকানে। কিন্তু এবার জুতার দোকানে আগেভাগেই ভিড় দেখা যাচ্ছে।
সম্রাট সু’র বিক্রয় কর্মী আহমেদ বলেন- কাস্টমারে চাপ সামলাতে রিতিমত হিশশিম খেতে হচ্ছে। আব্দুর রহিম নামে এক ক্রেতা বলেন, আমি চাকুরিজীবী। শুক্রবার ছুটির দিন ছাড়া ঈদের শপিং করা সম্ভব হয়না। তাই প্রচন্ড ভিড় উপেক্ষা করেও ঈদের পোশাক কিনতে এসেছি।
কাপুড়িয়াপট্টি রোডের দেখা ফ্যাশনের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু বলেন, শিশু পোশাক ও তরুণীদের থ্রি-পিসে বেশি বিক্রি হচ্ছে।
শহরের মুজিব সড়কের ফুটপাতের বিক্রেতা আলী বর্দি বলছেন, ফুটপাতে দোকান ভাড়া না থাকায় কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারেন তারা। অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য পেয়ে ফুটপাতের মার্কেটে ভীড় করছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের ক্রেতারা।
সালমা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, নিজ ও প্রিয়জনের জন্য ঈদের কেনাকাটায় চরম প্রশান্তি। তাই পছন্দের পোশাক ও প্রসাধনী কিনতে এসেছি।
যশোর শাড়ি কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তন্ময় সাহা বলেন- শাড়ি বিক্রি এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালো। এইচ এমএম রোডের শিশুদের পোশাকের দোকান ডরেমনের প্রোপাইটর নাজমুল ইসলাম রিপন বলেন, শিশু পোশাকের দোকানিরা ভালো বেচাকেনা করছেন। এদিকে, স্বল্প আয়ের মানুষের ভরসা হকার্স মার্কেট।
স্টেডিয়ামপাড়াস্থ হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী রুবেল শেখ বলেন, রমজান শুরুর সাথে সাথে বিক্রি বেড়েছে। মার্কেট জমজমাট হতে শুরু করেছে।