Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

❒ঈদ বাজার

শপিংমল থেকে ফুটপাত সবখানে কেনাকাটার ধুম

এখন সময়: শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০২৬, ১১:৩৫:৩৫ পিএম

মারুফ কবীর : ঈদের বাকি আর মাত্র কদিন। যশোরের বাজার, শপিংমল থেকে ফুটপাত সবখানে এখন কেনাকাটার ধুম। শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়- পোশাক, শাড়ি, জুতা-স্যান্ডেল, প্রসাধনী-কসমেটিকসসহ সবখানেই ছিলো ক্রেতার উপচে পড়া ভিড়। ব্যবসায়ীরা জানান, গতবছরের চেয়ে এবার বিক্রি ভালো। সাপ্তাহিক ছুটি দিনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপনে শেষ সময়ের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকেই। মার্কেটগুলোর প্রবেশপথে ঠেলাঠেলি করে ঢোকার পর দোকানগুলোতেও কেনাকাটা করতে হচ্ছে ভিড় সামলে। তাছাড়া কসমেটিকস ও জুতার দোকানে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এমনকি শহরের ফুটপাতের দোকানগুলোতে ছিলো প্রচুর ক্রেতাসমাগম। কেনাকাটার চাপে শহরের গুরুত্বপূর্ন সড়কে জ্যাম লেগে যায়। বিশেষ করে শহরের দড়াটানা থেকে মুজব সড়কের দুপাশে ফুটপাতে কেনাকাটার কারনে এ জ্যামের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। শুক্রবার সরেজমিনে যশোর শহরের শপিংমল, কাপুড়িয়াপট্টি, এইচ এমএম রোড, সিটি পাজা, জেস টাওয়ার , কালেক্টরেট মাসজিদ মার্কেট, মুজিব সড়ক মার্কেট ও পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান,ঈদ করতে অনেকে গ্রামে যাবেন। এ কারনে যশোরের বাজারে ভিড় বেশি। কাপুড়িয়াপট্টি রোডের দেখা ফ্যাশনের প্রোপাইটর মান্না দে লিটু বলেন, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের মার্কেট, শপিংমল, ফ্যাশন হাউস ও বিপণী বিতানগুলো ক্রেতা সমাগমে মুখর হয়ে ওঠে। ঈদের আগে শেষ শুক্রবার (সম্ভাবত) হওয়ায় বাজারে ভিড় অনেক বেশি। তিনি আরও বলেন, অনেক ঈদ করবেন গ্রামের বাড়িতে। একারনে শেষ মুহূর্তে পরিবারের জন্য কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন অনেকে। সিটি প্লাজা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি শফিকুর রহমান আজাদ বলেন, বছরের এই সময়টায় বেচাকেনা হয় সর্বাধিক। ঈদ ঘনিয়ে আসায় ক্রেতারা কেনাকাটা দ্রুত সেরে নিচ্ছেন। প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা সমাগমে খুশি ব্যবসায়ীরা। যশোর শাড়ি কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তন্ময় সাহা বলেন, ঈদের আগে শেষ শুক্রবার হওয়ায় বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। বিশেষ করে শহরের অনেক লোক গ্রামে ঈদ করবেন, এ কারনে শেষ মুহূর্তে বাজারে ভিড় বেশি। শহরের ডরেমন শিশু পোশাকের দোকানের প্রোপাইটর রিপোন হোসেন বলেন, অন্যান্য পোশাকের দোকানের চেয়ে শিশু পোশাকের দোকানে বেশি ভিড় ছিল। সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত ক্রেতা সামলাতে দোকানের সেলসম্যানদের অতিরিক্ত রেগ পেতে হচ্ছে। স্টেডিয়াম পাড়ার হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী রুবেল শেখ বলেন, শেষের দিকে এসে আমাদের মার্কেটের কেনাকাটা জমে উঠেটে।
কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মঈনউদ্দীন টেনিয়া বলেন- ক্রেতা সমাগম ভালো হচ্ছে। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষকে চাহিদা মোতাবেক পোশাক দেখাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
ফুটপাতের পোশাক বিক্রেতা রমজান আলী বলেন- আমাদের বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। রহিম নামে এক ক্রেতা বলেন- স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফুটপাতই একমাত্র ভরসা। পরিবারের সবার জন্য পোশাক কেনাকাটার জন্য বড় শপিংমলে যাওয়ার সাধ্য হয়ে ওঠে না।
ফুটপাতের দোকানগুলোতে এখন অনেক ভালো পণ্য পাওয়া যায়। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় এখান থেকে কিনতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। বড় বড় পোশাকের দোকান ছাড়াও এদিন শহরের মুজিব সড়ক ও অন্যান্য রাস্তার পাশের ফুটপাতে জমজমাট পোশাক বিকিকিনি হয়।
মুজিব সড়কের রঙ ফ্যাশনের বিক্রয় কর্মী রহমান বলেন- আজ সারাদিন ক্রেতার চাপ ছিল অনেক। কালেক্টরেট মসজিদ মার্কেটের পোশাকের দোকান হ্যাভেন ড্রেসের প্রোপাইটর সুমন বলেন- সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিরামহীন বেচাকেনা করেছি।
শহরের ফেন্সি মার্কেটের কসমেটিকস ব্যবসায়ী রাসেল বলেন- চলতি বছরে কসমেটিকস ও প্রোসাধনী বিক্রি হচ্ছে আশাঅনুরূপ।
জুতার ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বলেন-ঈদের কেনাকাটা করতে এসে বেশিরভাগই নতুন পোশাকের পাশাপাশি নতুন জুতা কেনেন। তবে আমাদের কাছ থেকে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি জুতা কেনেন। এ কারণে মেয়েদের জুতার কালেকশন বেশি এবং বিক্রি ভালো হচ্ছে।
জেস টাওয়ার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা এমএ আকসাদ সিদ্দীকি শৈবাল বলেন-আমাদের শপিংমলে অল্পসংখ্যক পোশাকের দোকান কম, তারপরও শুক্রবার ভালো বেচাকেনা করেছেন ব্যবসায়ীরা। কাপুড়িয়াপট্টির মডার্ন টেইলার্সের প্রোপাইটর রুহুল আমিন বলেন, ২০ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেয়া হয়েছে। এখন ডেলিভারি দেয়ার পালা। আশা করছি সময়মত পোশাকের ডেলিভারি দিতে পারবো। সম্রাট সু’র বিক্রয় কর্মী আহমেদ বলেন-কাস্টমারে চাপ সামলাতে রিতিমত হিশশিম খেতে হচ্ছে। শহরের চেয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আজ কাস্টমার এসছে, এজন্য প্রচণ্ড চাপ।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)