স্পন্দন ডেস্ক : দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
শুক্রবার বিপিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে’ জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক খবর ছড়ানোয় ভোক্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সংস্থাটি বলছে, এর ফলে ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ তেল ডিপো থেকে তোলার চেষ্টা করছেন। কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করারও চেষ্টা করছেন বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গাড়ির ধরন অনুযায়ী দৈনিক ট্রিপপ্রতি সরবরাহের পরিমাণ ঠিক করে দিয়েছে বিপিসি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেট কারে ১০ লিটার এবং এসইউভি, জিপ ও মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল দেওয়া যাবে।
ডিজেলচালিত পিকআপ ও লোকাল বাসে ৭০ থেকে ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কনটেইনার ট্রাকে ২০০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া যাবে।
বিপিসি জানিয়েছে, ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার সময় ভোক্তাকে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ দিতে হবে। পরে তেল নেওয়ার সময় আগের ক্রয়রশিদের মূল কপি জমা দিতে হবে।
ডিলারদেরও এই বরাদ্দ ও নির্দেশনা মেনে ভোক্তা পর্যায়ে তেল সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে মজুদ ও বিক্রির তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে দিয়ে তেল উত্তোলন করতে হবে।
বিপণন কোম্পানিগুলোকে ডিলারদের তেল দেওয়ার আগে বর্তমান বরাদ্দ অনুযায়ী মজুদ ও বিক্রির তথ্য যাচাই করতে বলা হয়েছে। কোনোভাবেই নির্ধারিত বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিপিসি বলেছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিদেশ থেকে আমদানির কার্যক্রম ও সূচি নির্ধারিত আছে এবং নিয়মিতভাবে চালান দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধান স্থাপনা থেকে সারাদেশের ডিপোতে রেল ওয়াগন ট্যাংকারের মাধ্যমে তেল পাঠানো হচ্ছে।
সংস্থাটি আশা প্রকাশ করেছে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক গড়ে উঠবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল কেনাবেচার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দাম আদায় আইনগত অপরাধ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
মার্চ মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোতে মার্কিন ঘাঁটি এবং জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে।
তাতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরকার বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের যে মজুদ আছে, তাতে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের মধ্যে তেল কিনে রাখার হিড়িক পড়ে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে দুদিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।