ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সরকারি খাল ভরাট করে ইট ভাটায় মাটি পরিবহনের অভিযোগ উঠেছে অসাধু মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে। অসাধু মাটি ব্যবসায়িরা উপজেলার ঈশ্বরবা এলাকার ‘নিমাই-এর খাল’ নামের খালটির পাড় কেটে ভরাট করে ও বাঁধ দিয়ে রাতের আধারে ফিরোজা ব্রিকস নামের ইট ভাটায় মাটি পরিবহন করছে। এমন অভিযোগ পাওয়ার পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উপজেলার ঈশ্বরবা গ্রামের নিমাই এর খালের পাড় কেটে ও খালের মধ্যে দুই স্থানে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে রাতের আধারে মাটি পরিবহনের জন্য রাস্তা তৈরি করেছে। মাটি কাটা শুরু হয় রাত আটার পর থেকে চলে ভোর রাত পর্যন্ত। এই মাটি পরিহনের কাজে প্রায় ৩০টি ট্রাক্টর বাবহার করা হচ্ছে। চাচড়া গ্রামের জাকারিয়া হোসেনের ঈশ্বরবা মাঠের পুকুর থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে রাতের আধারে উপজেলার পাদবিলা গ্রামের ফিরোজা ইট ভাটায় সরবারহ করা হচ্ছে। ঈশ্বরবা গ্রামের তরিকুল ইসলাম নামের একজন কৃষক জানান,নিমাই এর খালটি ঈশ্বরবা গ্রামের মাঠ থেকে শুরু হয়ে সিমলার বাওড়ে গিয়ে মিশেছে। বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে চারটি গ্রাম ও মাঠের পানি প্রবাহিত হয়। আগামী বর্ষা মৌসুমে এই চার গ্রামের ধানসহ অন্যান্য ফসল হবে না যদি এই খাল দিয়ে পানি বের না করা যায়। এমনকি বাসা বাড়ীর ভিতরও পানি উঠে যেতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, অবৈধ মাটি ব?্যবসায়িরা নিমাই এর খালের পাড় কেটে বাঁধ দিয়ে মাটি পরিবহন করছে। এমনকি তারা খালের পাড় কেটে সেই মাটিও ইট ভাটায় নিয়ে গেছে। গ্রামবাসীরা দুঃখ করে আরো বলেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দেশজুড়ে খাল খননের কর্মসূচি গ্রহণ করছে বলে জানতে পেরেছি আর এই অবৈধ মাটি ব?্যবসায়িরা খাল ভরাট করা শুরু করেছে। পুকুরটির মালিক জাকারিয়া হোসেন জানান, ঈশ্বরবা গ্রামের মাঠে ১২ বিঘা জমিতে আমার একটি পুকুর আছে। পুকুরটি ঈশ্বরবা গ্রামের রকির কাছে লিজ দেয়া আছে। আমি এর বেশি কিছু জানি না। ফিরোজা ব্রিকসের মালিক সেলিম হোসেন জানান, আমাদের ইট তৈরির জন্য একমাত্র কাঁচামাল হিসেবে মাটির প্রয়োজন। কিন্তু আমরা নিজেরা এখন আর এই মাটি সংগ্রহ করি না। আমরা এখন দালালদের মাধ্যমে মাটি ক্রয় করি। বর্তমানে ইশ্বরবা গ্রামের এনামুল আমাদের ইটের ভাটায় মাটি সরবরাহ করছে। সে কোথা থেকে কিভাবে মাটি সরবরাহ করছে আমি জানি না। অভিযোগের বিষয়ে অসাধু মাটি ব?্যবসায়ী ঈশ্বরবা গ্রামের এনামুল ইসলাম বলেন, গ্রামের ভিতরের রাস্তা দিয়ে মাটি পরিবহন করতে গ্রামবাসী নিষেধ করায় বিকল্প রাস্তা হিসেবে খালের ভিতর দিয়ে মাটি পরিবহন করছি। আমি না বুঝে খাল ভরাট করে ভুল করে ফেলেছি। মাটি পরিবহন করা শেষ হলে খালটি আবার আগের মতো করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, খবর পেয়ে আমি খালটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেসময় অসাধু মাটি ব্যবসায়ী কাউকে খুঁজে পাইনি।