নিজস্ব প্রতিবেদক,মহেশপুর : অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের চেষ্টাকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে ৭ ভারতীয় নাগরিকসহ ১১ জনকে আটক করেছে বিজিবির সদস্যরা। সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজিবি জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে মহেশপুরের শ্রীনাথপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার রমজান আলীর নেতৃত্বে অভিযান কালে ভারতীয় ৭ নাগরিককে আটক করা হয়। আটক ৭ ভারতীয় নাগরিক একই পরিবারের সদস্য। আটকদের মধ্যে ১জন পুরুষ, ১জন নারী ও ৫ জন শিশু রয়েছে। আটক ভারতীয় নাগরিকরা হলেন-পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কা থানার টিল ঢাংগা গ্রামের হযরত আলীর ছেলে মো. শাহাজান (৩৩), তার স্ত্রী তৈয়বা বেগম (৩০)। এ সময় ভারতীয় দম্পতির পাঁচ সন্তানকেও আটক করে বিজিবি। তারা হলেন-ইমরান (১২), ইফরান (১০), আয়ান (৮), মো. জিদান (৬) ও মোছা. সায়দা খাতুন (৪)। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাতে মহেশপুরের ৫৮ বিজিবির অধীন বাঘাডাংগা বিওপির হাবিলদার অনুপম বিশ্বাসে নেতৃত্বে অভিযান চালায়। এ সময় ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টাকালে ৪ জনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন, খুলনার দাকোপ থানার আন্ধারমানিক গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে হুমায়ুন কবির, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানার উত্তর আটুলিয়া হাওয়ালভাঙ্গী গ্রামের সিরাজুল গাজী (২৮)। বাকি দুজনের মধ্যে একজন নারী ও একজন শিশু। বিজিবি জানিয়েছে, আটক শাহাজান ৩ বছর বয়সে ভারত গমন করেন এবং সেখানে ৩০ বছর ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। পরবর্তীতে শাহাজান ভারতীয় নাগরিক মোছা. তৈয়বা বেগমকে বিয়ের পরে ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করেন। জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে রাজশাহী সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে আটক ৭ ভারতীয় নাগরিক। তারা গাইবান্ধায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে গাইবান্ধা বিসিকে কাজ করতেন। কাজ শেষে শুক্রবার (৬ মার্চ) অবৈধভাবে মহেশপুর সীমান্ত পেরিয়ে তারা ভারতে ফেরার চেষ্টাকালে বিজিবির হাতে আটক হন। মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের সহকারী পরিচালক মুন্সি ইমদাদুর রহমান বলেন,আটকদের মহেশপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন- আটক ৭ ভারতীয় নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পরবর্তী করণীয় চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অপর আটক ৪ বাংলাদেশির মধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক দুজনকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। আটক নারী ও শিশুদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হবে।