নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা নববর্ষবরণে প্রস্তুতির একেবারেই শেষ প্রান্তে বৈশাখী শোভাযাত্রার আঁতুড়ঘর চারুপীঠ আর্ট রিচার্স ইনস্টিটিউট যশোর। সকাল থেকে রাত অবধি পৌর উদ্যানের উত্তর প্রান্তে একাকীত্বে থাকা সংগঠনটিতে চলছে প্রস্তুতি বিশাল কর্মযজ্ঞ। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণের শোভাযাত্রার উপকরণ তৈরিতে ছোট বড় একদল আকিয়ে অলসহীন কাজ করে চলেছে। যেখানে শিল্পী, সংগঠক ও শিক্ষার্থীরা মিলে বুনছেন নতুন দিনের স্বপ্ন। দুই মাস আগে থেকে পরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনের প্রথম সকাল পহেলা বৈশাখকে ঘিরে এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক জাগরণও। রঙের প্রতিটি আঁচড়, প্রতিটি শিল্পকর্ম যেন বলে বাঙালির প্রাণে উৎসব মানেই একসঙ্গে থাকা, আনন্দ ভাগাভাগি করা, আর ঐতিহ্যকে নতুন করে ধারণ করা। চারুপীঠ প্রাঙ্গণে গিয়েই চোখ জুড়িয়ে যাবে শিল্পীর যত সব সৃষ্টিতে। চোখে পড়বে কেউ ব্যস্ত কালি কলমে, কেউ ব্যস্ত কাগজ কাটতে। ফুল, পাখি তৈরিতে নীরবে নিভৃতে আপন মনেই ব্যস্ত সকলে। জেলা প্রশাসন আয়োজিত সম্মিলিত শোভাযাত্রায় দৃষ্টি নন্দন উপকরণ বিশাল আকৃতির মোরগ, শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর ও চতুর শিয়ালের শিল্পকর্ম তৈরী সম্পন্ন হয়েছে। শোভাযাত্রায় হাতে বহনের জন্যে তৈরী করা হয়েছে মুখোশ। শুধু এতেই সীমাবদ্ধ নয়। বৈশাখী শোভাযাত্রাকে বর্ণিল করে তুলতে প্রস্তুত করা হয়েছে তিনশটি রাজা-রানির মুকুট, দুইশটি রঙ-বেরঙের মুখোশ এবং ৫০টি থিমভিত্তিক ফেস্টুন। এসবের মাধ্যমে ফুটে উঠবে গ্রামীণ জীবন, প্রকৃতি, লোকসংস্কৃতি ও সমসাময়িক ভাবনা। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার তৈরির জন্যেও নান্দনিক প্লাকার্ড করে রেখেছে তারা। ১৯৮৫ সালে মাহবুব জামাল শামীমের হাত ধরে এখান থেকেই শুরু হয়েছিল ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’, যা পরবর্তীতে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে এটি ইউনেসকো স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। চার দশক পেরিয়ে এবার পাঁচ দশকের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বৈশাখী শোভাযাত্রাটি। মাহবুব জামাল শামীম জানান- শোভাযাত্রা উপকরণ বহনে জয়তী সোসাইটির ১শ’ সদস্য অংশ নেবে। তার মধ্যে তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে উপকরণ। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ বলেন-এবারের বৈশাখকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে যেতে আমাদের চেষ্টা রয়েছে। আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন শুধু আনন্দ নয়, এবারের আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হয়েছে।’