অসীম মোদক,মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তে নিহত আফগানিস্তান নাগরিক হাশমতের মরদেহ নিতে বড় ভাই মীর ওয়াসী লন্ডন থেকে মহেশপুরে এসেছেন। ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে। যে কোন সময় সীমান্ত এলাকায় সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত আফগান নাগরিক হাশমতের মরদেহ কবর স্থান থেকে উত্তোলন করে লন্ডনের উদ্দ্যেশে রওনা হবেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।
পারিবারিক শোক ও দায়িত্ববোধ থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গত শুক্রবার সকালে মহেশপুর থানায় আসেন।
থানার একটি সুত্রে জানায়, সেদিন সকালে লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছে দ্রুত যশোরে যান তিনি। সেখান থেকে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মহেশপুর থানায় আসেন বড় ভাই মীর ওয়াসী।
থানায় গিয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিহত ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরিবারের ইচ্ছা, হাশমতের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে নিজ দেশে নিয়ে গিয়ে ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী পুনরায় দাফন করার।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই টিপু জানান, বিষয়টি মানবিক ও সংবেদনশীল হওয়ায় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। এজন্য মীর ওয়াসীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং আদালতের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এক ভাইয়ের প্রতি আরেক ভাইয়ের এই দায়িন্ত বোধ ও ভালোবাসার ঘটনা স্থানীয়দের মাঝেও সহমর্মিতা সৃষ্টি করেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই মরদেহ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।
মহেশপুর থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, এখন ডিএনএ রির্পোট আর দূতাবাসের অনুমতি পেলেই বড় ভাই মীর ওয়াসী তার ছোট ভাইয়ের লাশ নিয়ে যেতে পারবেন।
উল্লেখ্য গত ১৩ এপ্রিল মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা বিজিবি ও পুলিশের খবর দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠায়। ১৪ এপ্রিল ঝিনাইদহ গোরস্থানে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করে হয় আফগান নাগরিক হাশমতের মরদেহ।