Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

কেশবপুরে বুড়িভদ্রা নদীতে ব্রিজের অভাবে দুর্ভোগে দুই উপজেলার বাসিন্দারা

এখন সময়: সোমবার, ২৭ এপ্রিল , ২০২৬, ০৩:৩২:৫৯ এম

কেশবপুর প্রতিনিধি : কেশবপুর উপজেলার গৌরীঘোনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গৌরিঘোনার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে বুড়িভদ্রা নদীতে একটি ব্রিজের অভাবে নদী পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। ব্রিজ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে কেশবপুরের ও পার্শ্ববর্তী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলা জনগণ। তারা যাতায়াতের জন্য স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত কাঠের ব্রিজটি নদী খননের কারণে একমাত্র ভরসা কাঠের ব্রিজ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
সরেজমিনে পরিদর্শনে জানা যায় গৌরীঘোনা, বুড়ুলী ভেরচী দশকাহুনিয়া, সারুটিয়া, ভরতভায়না,আগরহাটী, কাশিমপুর, সন্ন্যাসগাছা গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী খুলনা জেলার
ডুমরিয়া, কুলবাড়িয়া, বরাতিয়া, গোবিন্দকাটি, মঠবাড়িয়া, চাকন্দিয়া, এলাকায় যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা হচ্ছে বুড়িভদ্রা নদীতে বাঁশের তৈরী ব্রীজ। এখন ব্রিজটি না থাকায় স্কুল-কলেজ এবং কর্মস্থলে যাওয়ার শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়, পরিতোষ মল্লিক আলমগীর হোসেন, অনির্বাণ বিশ্বাস, কাদের ফকির, ইব্রাহিম শেখ জানান প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে অন্তত ২ হাজার মানুষ যাতায়াত। নদী পারাপারের জন্য নিজেদের টাকা দিয়ে কাঠের ব্রিজ নদী খননের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ নদীর মধ্য দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনার ঘটছে। মোটরসাইকেল পারাপার করা যায় না, এপারে গাড়ি রেখে ঐ পার কাঁঠাল তলায় গেলে ফিরে এসেগাড়ি চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে।
সামনের বৃষ্টি মৌসুমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, ক্লাস বা প্রাইভেটে বিঘœতাও সৃষ্টি হচ্ছে। রোগী আনা-নেয়া এবং কৃষিপণ্য বাজারজাত করতেও পড়তে হয় বিপাকে। অগ্নিকা-ের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস পৌঁছাতে না পারায় ঝুঁকি আরও বাড়ে। একটি ব্রিজ হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সবক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বহুদিন ধরে ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু পরে আর খোঁজ নেন না। চতুর্থ শ্রেণীর স্কুলছাত্রী মরিয়ম খাতুন জানান, এখন যে পরিবেশ হয়েছে বৃষ্টির সময় চলাচল করা যায় না,স্কুলে প্রাইভেটে সময়মতো পৌঁছাতে সমস্যা হয়। সামান্য এদিক-ওদিক হলে পানিতে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এতে করে পড়াশোনার উৎসাহ হারাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।’
কৃষক আমজাদ বিশ্বাস বলেন, ঘাটে একটি ব্রিজ ১৫ টি গ্রামের জন্য অত্যন্ত জরুরি। কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অতিরিক্ত খরচ হয় এবং অনেক সময় ফসল পানিতে পড়ে যায়। ব্রিজ হলে দ্রুত বিক্রি করা সম্ভব হবে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে।’
অন্য কৃষক আব্দুল লতিফ ফকির,জানান, ‘ব্রিজ না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে পারে না, ফলে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয়ে রোগী মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। আমরা চাই আমাদের এখানে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ করে দেয়া হোক।
গৌরিঘোনা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বিশ্বজিৎ কুমার মল্লিক জানান- দুর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলের নাম দক্ষিণ গৌরিঘোনা পূর্ব এলাকা, এই জায়গাটির জিরো পয়েন্ট নামে পরিচিত এই জনপদের মানুষের চলাচলের জন্য ব্রিজ না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। আমাদের বিভাগীয় শহর খুলনা যাতায়াতের জন্য এই ব্রিজ না থাকাতে ১০ থেকে ১২ কিলো রাস্তা ঘুরে যাওয়া লাগে।
তিনি আরো জানান- ব্রিজটা না হওয়ার অভাবে এই এলাকার বসবাস কারীদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া ও মালামাল আনা-নেয়ায় খুবই কষ্ট হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল, ভ্যান, রিকশা নিতে খুব কষ্ট হয়। বাসিন্দারা ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে কাঁঠালতলা থেকে গৌরীঘোনা আসতে পারেন না। দ্রুত ব্রিজ নির্মাণ হলে পুরো দুই উপজেলার জনগণে উপকৃত হবে।’
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও গৌরিঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক সেখ ফিরোজ আহমেদ বলেন- ওখানে বাঁশের তৈরি একটি ব্রিজ ছিল, জনস্বার্থে খাল খননের জন্য ব্রিজটি ভেঙে ফেলা হয়েছে,সামনে বর্ষার মৌসুম কেশবপুরের এবং পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া প্রচুর লোকজন ওখান দিয়ে চলাচল করে। এছাড়াও প্রচুর কাঁচামাল সবজি উৎপাদন হয় ওই এলাকায় ব্রিজ না থাকাই মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় জনগণ স্কুল কলেজ মাদ্রাসা যাতায়াতের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি এমপিকে এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করেছি। ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন-দক্ষিণ গৌরীঘোনায় তাদের অর্থায়নে একটি কাঠের নির্মিত ব্রিজ ছিল তবে চলমান খাল খননের জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা শিক্ষার্থীরা সহ কৃষিপণ্য, মালামাল ব্যবসা-বাণিজ্যের পণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে স্কিম প্রণয়ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে দ্রুতই ব্রিজ নির্মাণ পরিকল্পনা গ্রহণ বা বিকল্প ব্যবস্থা এ বাস্তবায়ন করা হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)