স্পন্দন ডেস্ক : বর্তমান জাতীয় সংসদকে অকার্যকর হওয়া থেকে রক্ষা করতে সব সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদনেতা তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে যেখানে ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে এই সংসদ দেশ পরিচালনা শুরু করেছে, সেই দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে পারব না (যদি না) আমরা একটি স্থিতিশীল সরকার না রাখি। আমরা যদি একটি স্থিতিশীল সংসদ নিশ্চিত করতে না পারি, আমরা কোনোভাবেই এই দেশকে সামনে নিয়ে যেতে পারব না। সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই দেশকে যদি সামনে নিতে হয়, তাহলে অবশ্যই আমাদের উভয়পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে।
“হ্যাঁ, বাংলাদেশে আইটি শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে হয়ত আমাদের মধ্যে বিতর্ক হতে পারে- এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আইটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো বিতর্ক নেই।”
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দ্বাদশ সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের পথ পেরিয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠন করা হয় ত্রয়োদশ সংসদ। এরপর ১২ মার্চ বসে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন।
এই অধিবেশনের সমাপনী দিনে সংসদ নেতার বক্তৃতায় তারেক রহমান বলেন, ‘‘১৯৭১ সালে এই দেশ যখন স্বাধীন হয়েছে এই মুহূর্তে আমরা বিভিন্ন বিবেচনায় আমাদের দেশকে যদি স্ট্যান্ডার্ডে ধরি আমাদের মতন অনেক দেশ ছিল যারা হয়তো ১৯৭২-৭৩ সালে স্বাধীন হয়েছিলো তারা আমাদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে। আমরা পারিনি কেন? কারণ বিভিন্নভাবে এই দেশকে একটু আগেই যেটা বলেছি, বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে গণতন্ত্রকে।”
বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত যদি হয়, গণতন্ত্র প্রতিবার বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছু বাধাগ্রস্ত হবে।
“আপনার মাধ্যমে আমি বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, আসুন আমরা ডিবেট করব, আমরা বিতর্ক করব, আমরা আলাপ করব, আমরা আলোচনা করব, আমরা বসব, আমরা কথা বলব কিন্তু কোনভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।”