ফরহাদ খান, নড়াইল : কারোর বাবা ভ্যানচালক, কারোর বাবা ইজিবাইক চালক, কেউবা কৃষক। যোগ্যতার ভিত্তিতে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়ে মহাখুশি উদ্যামী তরুণ-তরুণীরা। বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা ৬টার দিকে নড়াইল পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে, তারা দেশ ও জনকল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
নড়াইল জেলায় ৬২০ জনের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে চূড়ান্ত ভাবে ১৪ জন কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন। এর মধ্যে তিনজন নারী সদস্য আছেন। আর অপেক্ষমান তালিকায় আছেন দুইজন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার চূড়ান্ত ভাবে ১৪ জনের নাম ঘোষণা করলে আনন্দ অশ্রু দেখা যায় সবার চোখে-মুখে। সবাইকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপারসহ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ শিবলী সাদিক ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন।
চাকরিপ্রাপ্ত নড়াইল শহরের কুড়িগ্রামের আবিদ হোসেন, আগদিয়া গ্রামের পাপিয়া খাতুন, উড়ানী গ্রামের রুকাইয়া খাতুন, চরবিলা গ্রামের সুব্রত বিশ^াসসহ ১৪জন জানালেন, কোনো প্রকার তদবির বা টাকা ছাড়াই কনস্টেবল পদে চাকরি পেয়েছেন তারা। সম্পূর্ণ যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের চাকরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। তাই চাকরি পেয়ে তাদের চোখে আনন্দ অশ্রু। কান্নাভেজা কণ্ঠে জানালেন আবেগের কথা। বাবা-মায়ের অবদানের কথা। অনেক কষ্টে তাদের (সন্তান) বড় করার কথা। চাকরিতে আত্মনিয়োগ করে দেশপ্রেমের কথা।
এদিকে, সন্তানদের সুসংবাদ শুনে বাইরে অপেক্ষমান বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সদস্যরা আনন্দে আত্মহারা। বাইরে এসে খুশিতে বাবা-মাসহ স্বজনদের জড়িয়ে ধরেছেন সদ্য চাকরিপ্রাপ্তরা।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার জানান, কনস্টেবল পদে চাকরির জন্য নড়াইলে ৬২০ জন আবেদন করেন। এর মধ্যে শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ১৫৭ জন। এর মধ্যে থেকে ১৫৬ জন লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে ২২ জন উত্তীর্ণ হয়। এর মধ্যে চূড়ান্ত ভাবে মনোনীত হয়েছেন ১৪জন। আর দুইজন অপেক্ষমাণ আছেন। সবাই যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে চাকরি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।