নিজস্ব প্রতিবেদক : জমকালো আয়োজন ও আবেগঘন পরিবেশের মধ্যদিয়ে যশোর সদরের দোগাছিয়া আহসাননগর আলিম মাদ্রাসায় অবসরজনিত ১০ জন শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা এবং গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাদ্রাসার হলরুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ঢাকা মেইলের নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল বলেন-শিষ্টাচার, ক্ষমাশীলতা ও কর্তব্যপরায়ণতা-এই তিন গুণে যিনি পরিপূর্ণ, তিনিই শিক্ষক। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার, অনাচার ও কুসংস্কার দূর করে একটি আলোকিত সমাজ গঠনে শিক্ষক সমাজই মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। শিক্ষাকে জাতির মেরুদণ্ড বলা হয়, আর সেই মেরুদণ্ডকে দৃঢ়ভাবে দাঁড় করানোর মূল কারিগর হচ্ছেন শিক্ষক।
তিনি আরও বলেন-জাপানের একটি বিখ্যাত প্রবাদ রয়েছে-‘ইবঃঃবৎ ঃযধহ ধ ঃযড়ঁংধহফ ফধুং ড়ভ ফরষরমবহঃ ংঃঁফু রং ড়হব ফধু রিঃয ধ মৎবধঃ ঃবধপযবৎ।’ অর্থাৎ, ‘হাজার দিনের পরিশ্রমী অধ্যয়নের চেয়ে একজন মহান শিক্ষকের সঙ্গে একটি দিন কাটানো উত্তম।’ এই উক্তির মধ্য দিয়েই বোঝা যায়, শিক্ষকতা কেবল জ্ঞানদান নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রেরণা, সাহস ও দিকনির্দেশনা দেওয়ার এক মহান দায়িত্ব।’ বক্তব্যে শেষে শিক্ষকদের জন্য তিনি দোয়া কামনা করেন।
বিদায়ী শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা বলেন, কর্মজীবনের শুরু যেমন আনন্দের, তেমনি দীর্ঘ কর্মজীবনের সমাপ্তি ও বিদায় বেদনাদায়ক। তবে এমন সম্মাননা ও ভালোবাসাপূর্ণ আয়োজন তাদের আনন্দিত ও গর্বিত করেছে।
মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যাপক ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারি এমএম কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদ, সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান, চান্দুটিয়া এমআই দাখিল মাদ্রাসার সুপার আলমগীর কবীর, কুয়াদা ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হেদায়েত খান, বিদায়ী শিক্ষক মাওলানা ওলিয়ার রহমান, শওকত আলী, মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিনিয়র শিক্ষক আনসার আলী। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উপহারসামগ্রী ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বিশিষ্ট সাংবাদিক হারুন জামিলকে গুণীজন সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।