নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় সার্ভাইভার লিডার শরিয়া ইয়াসমিন বলেন-অনেকে পাচারের শিকার হয়ে বিদেশ থেকে ফিরে আসার পর পাসপোর্ট থাকে না। এসব সার্ভাইভার সরকারি-বেসরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হন। ভালো কোন প্রশিক্ষণ না পাওয়ার কারণে দক্ষ হয়ে কোন কাজে যুক্তও হতে পারেন না। আবার ব্যবসার জন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গেলেও নানা শর্তের বেড়াজালে আটকা পড়তে হয়। ফলে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা শুরুতেই হোঁচট খায়। সার্ভাইভারদের কষ্ট, দুঃখ, নির্যাতনের কথা বিবেচনা করে সেবাসমূহের নীতিমালা শীথিল করার অনুরোধ জানান তিনি। তিনি সকল সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের জন্য কিছু করুন’। সোমবার (১৮ মে) মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর এই সমন্বয় সভার আয়োজন করে। সকালে যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে এই সভা ‘আশ্বাস : মানব পাচার হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষদের জন্য’ প্রকল্পের অধীনে আয়োজন করা হয়। শরিফার কথার সূত্র ধরে অংশ গ্রহণকারীরা বলেন, সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে জোরালো সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে মানব পাচারের সার্ভাইভারদের জন্য কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে যেসব প্রতিবন্ধকতা বা চ্যালেঞ্জসমূহ রয়েছে তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে সেবা পাওয়ার পথকে প্রশস্ত করতে হবে। তাহলেই সার্ভাইভাররা সত্যিকার অর্থেই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবে। সভায় বলা হয়-সার্ভাইভারদের সেবার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে যেসব প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্চ চিহ্নিত করা হয়েছে তারমধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, দুর্বল সমন্বয়, নথিপত্রের অসঙ্গতি, আদালত বহির্ভুত মিমাংসা এবং আর্থিক ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতা। আবার দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের শর্তসমূহ পূরণ করতে না পারা, আনুষ্ঠানিক চাকরির সীমাবদ্ধতা, চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন করতে না পারা এবং কম বেতনের কারণে সার্ভাইভাররা আর্থিকভাবেও লাভবান হতে পারছেন না বলে সভায় জানানো হয়। উইনরক ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার এবং সিভিল সার্জন ডাক্তার মাসুদ রানা। সভার শুরুতে প্রকল্প পরিচিতি তুলে ধরেন উইনরক ইন্টারন্যাশনালের পলিসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি স্পেশালিস্ট মৃন্ময় মহাজন। অন্যান্যের মধ্যে আলোচনা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হারুন-অর-রশিদ, জেলা জনশক্তি ও কর্মসংস্থান অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম, রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রামপ্রদান রায়।