নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে জৈষ্ঠ্যের খরতাপে সারাদিন পুড়ে অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি হয়েছে। সন্ধ্যায় বৃষ্টি ও শীতল বাতাসে মানুষ স্বস্তি খুঁজে পান। সোমবার ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে টানা তাপপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সোমবারও সারাদিন প্রচণ্ড গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে। সোমবার যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার আগুনে পুড়েছে যশোর। যশোরে এই তাপপ্রবাহে গোটা প্রাণ-প্রকৃতি দগ্ধ হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। স্বস্তি পেতে শ্রমজীবী মানুষ রাস্তার পাশে জিরিয়ে নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ হাতে মুখে পানি দিয়ে ঠান্ডা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেউবা শরবর, আখের রস, স্যালাইন পানিতে শরীর শীতল করার চেষ্টা করছেন। এদিকে, সারাদেশে বজ্রসহ বৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেই সঙ্গে দুই বিভাগে ভারী বৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক-এর দেয়া পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়। আবহাওয়া অফিস জানায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া পটুয়াখালী জেলাসহ খুলনা বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে এবং সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। সোমবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন যশোরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, তাপদাহে যশোরে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তা, ঘাট, ফসলের ক্ষেতে চোখ ঝলসানো উত্তাপ বিরাজ করছে। ঘরের বাইরে বের হলেই আগুনের হল্কা গায়ে লাগছে। শ্রমজীবী মানুষ রয়েছেন চরম ভোগান্তিতে। যশোর শহরের সার্কিট হাউজ মোড়ে ডাব বিক্রেতা জালাল উদ্দিন জানান, প্রচন্ড গরমে অনেক মানুষ ডাব খেতে আসছে। কিন্তু গরমে ডাবের পানিও যেনো গরম হয়ে যাচ্ছে। আর রোদে দাঁড়িয়ে ডাব বিক্রি করতে নিজের জানই বের হয়ে যাচ্ছে। যশোর শহরের খড়কি এলাকার রিকসা চালক জয়নাল মিয়া বলেন, প্রচন্ড গরমে গায়ে যেনো আগুনের ধাক্কা লাগছে। একটু রিকসা চালালেই ঘামে গা ভিজে যাচ্ছে। গরমে মাথা ঘুরে উঠছে। গরমে রিকসা চালালে গায়ে যেনো আগুনের ছ্যাকা লাগছে। তারপরও রিকসা চালাতে হচ্ছে। কিন্তু ঠিকমত ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। গরমে বাইরে মানুষ কম আসছে। এদিকে, বৃষ্টি গতকাল সন্ধ্যার পর যশোরে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। যার কারণে মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন।