নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের চৌগাছার বিশ্বাস পাড়ায় স্বামীর সামনে লাইভ ভিডিও কলে থাকাকালীন নববধূ সেফা আত্মহত্যার ঘটনায় আদালতে মামলা হয়েছে। গত রোববার (১৪ জুন) আদালতে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলাটি করেছেন সেফার মা আসমা খাতুন।
চৌগাছা আমলী আদালতের বিচারক রিয়াজ অভিযোগটি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করার আদেশ দিয়েছেন চৌগাছা থানার ওসিকে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী আব্দুর রহমান সোহাগ।
আসামি খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতু চৌগাছার চুটারহুদা সাঞ্চাডাঙ্গা গ্রামের সাফাউজ্জামানের ছেলে।
মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ৩ এপ্রিল আসামি খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতু এর সাথে পারিবারিকভাবে মেয়ে শেফার বিয়ে হয়। মেয়েকে সোনার গহনা কম দেয়া হয়েছে এই অভিযোগ এনে বিয়ের দিন থেকেই তার মেয়েকে নানা ভাবে কথা শোনাতে থাকে স্বামীর বাড়ির লোকজন । মেয়ের বাবা প্রবাসী সে কারণে দু লাখ টাকাও দাবি করে খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতু । ব্যবসা করার জন্য দাবীকৃত ২ লাখ টাকা না পেয়ে শেফাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। গত ৬ জুন সেফা তার নানা সদর আলী কে ফোন করে বিষয়টি জানায় “পিতার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা এনে দিতে হবে। যাতে আমার সংসার টেকে।” এই নিয়ে প্রায় সেফাকে বিভিন্ন কটু কথা বলতো খালিদ বিন ওয়ালিদ সেতু।
সে প্রায় সময় বলতো টাকার জন্য বিয়ে করা হয়েছে। টাকা না পেলে সে শেফাকে তালাক দিয়ে অন্য জায়গায় বিয়ে করবে। সেফাকে মরার জন্য নানা কথা বলে। গত ৭ জুন দুপুরের সেফার সাথে ভিডিও কলে কথা বলে সেতু। সে সময় তাকে বলা হয় তাকে তালাক দেয়া হবে। ফের বিয়ের জন্য ইতোমধ্যে মেয়ে দেখা হচ্ছে। ভিডিও কলে থাকা অবস্থায় সেফা ঘরের আঁড়ায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সেই দৃশ্য সেতু ভিডিও কলে দেখে। পরে বাড়ির লোকজন চিৎকার চেঁচামেচি করলে সেতু ভিডিও কল কেটে দেয়। সেফাকে দ্রুত উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওইদিন রাত ১০ টার দিকে সেফা মারা যান। এই ঘটনায় শেফার মা বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন।