প্রেসবিজ্ঞপ্তি : প্রগতিশীল বাম আন্দোলনে যশোরের প্রবাদ পুরুষ আলমগীর সিদ্দিকীর ৪৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (বুধবার)। ১৯৭৭ সালের এই দিনে উত্তর বঙ্গের জেলা শহর নওগাঁর একটি আবাসিক হোটেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যান তিনি। সে সময় তিনি রাজনৈতিক সফরে ছিলেন। মরহুম আলমগীর সিদ্দিকী ছিলেন এদেশের শোষিত, নিপীড়িত, ভূখানাঙ্গা মানুষের মুক্তির সংগ্রামে নিবেদিত এক মহান পুরুষ। ১৯৪৮, ৪৪, ৫২, ৬৯, ৭১ ও পরবর্তীতে ৭৭-এ তার সাংগঠনিক তৎপরতা সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াই বাংলার শাশ্বত সংগ্রামের ইতিহাস তাকে অমরত্ত্ব প্রদান করেছে। যশোরের এক রক্ষণশীল পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি অতিক্রম করে মিশে গিয়েছিলেন মানুষের মিছিলে। আলমগীর সিদ্দিকীর ছাত্র জীবনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘটনাবলীর দিকে দৃষ্টি দিলে যে দৃশ্য সামনে দৃশ্যমান হয়,তা ১৯৪২ সালের সেই অসহযোগ আন্দোলন, ১৯৪৬ সালের “রসিদ আলী” আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলন, ১৯৪৮ সালে বাঙালী জাতির জাতীয় মুক্তির লড়াই এবং এর সুচনায় ভাষা আন্দোলন। এই সময় যশোরে কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে গড়ে উঠা রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সংগ্রামী পরিষদের তিনি আহবায়ক মনোনীত হন। সে সময়ে ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের বাধা এলে ছাত্র পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয় সেই সংঘর্ষে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ভাষা আন্দোলনের রুক্তক্ষয়ী সংগ্রামে সর্বপ্রথম রক্তঝরে। সমসাময়িক সময় রাজনৈতিক, রিক্সা, মোটর; বিড়ি ও প্রেস শ্রমিক সমিতিসমুহ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা। ১৯৪৯ সালে বাংলার মহানায়ক মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর সংগঠনের জন্য যশোর জেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন তিনি। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সূর্য সৈনিক এবং পরবর্তীতে ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি গঠন ও নেতৃত্ব দান। ১৯৬৮-৬৯ এর আয়ুব বিরোধী ব্যাপক গণআন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবন বাজি রেখে কর্মী বাহিনীকে উজ্জীবিত রাখেন। জেলার প্রতিটি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সাথে যে নেতার গতিময় সম্পকর্, তিনিই যশোরের আলোকিত বরেণ্য জননেতা আলমগীর সিদ্দিকী। মজলুম জননেতা মওলনা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর প্রিয় সংগ্রামী সহকারী আলমগীর সিদ্দিকীকে বাদ দিয়ে প্রগতিশীল আন্দোলন কখনই শুরু করেন নি।