Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

মহেশপুরে জমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় স্ত্রীকে তালাকের অভিযোগ

এখন সময়: শনিবার, ২০ জুন , ২০২৬, ০২:৫৮:১৫ এম

অসীম মোদক, মহেশপুর : ঝিনাইদহের মহেশপুরে জমজ কন্যা সন্তান জন্ম দেয়ায় রিনা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূকে তার স্বামী তালাক দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তালাকই নয়, জমজ কন্যা সন্তান বিক্রির টাকা দিয়ে দেনমোহরের (কাবিননামা) দাবি পরিশোধ করার জন্য ওই গৃহবধূ ও তার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানাযায়। রিনা খাতুন স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও যৌতুক দাবির অভিযোগে বিচারের দাবি করেছেন। পিতাহারা রিনা খাতুন গ্রামের মাতবর ও থানা-পুলিশ করেও কোনো সুরাহা পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে। মহেশপুর উপজেলার কাজিরবের ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামে এই অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী রিনা খাতুন নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। ও পাশ্ববর্তী পুরাতন কোলা গ্রামের মৃত পীর বস্ক্রের মেয়ে। কন্যান্তান জন্ম দেওয়ায় গৃহবধূর ওপর এমন নিষ্ঠুর নির্যাতনে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। ভুক্তভোগী রিনা খাতুন ও তাঁর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে রাকিবুলের সঙ্গে রিনার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁদের সংসার ভালোই চলছিল। তবে বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তসত্ত্বা হওয়ার পর। তার গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। রিপোর্টে গর্ভে জমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা রিনার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক রিনাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এরপর থেকে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কেউ তার কোনো খোঁজ নেননি। পরবর্তীতে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে ফুট ফুটে দু’টি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা। বর্তমানে শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও স্বামী রাকিবুল কিংবা তার পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেননি। এমনকি তাদের ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি। রিনা খাতুন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া নাকি আমার অপরাধ। এই অপরাধে আমাকে নির্যাতন করে তালাক দেয়া হয়েছে। এখন আমার স্বামী বলছে, জমজ সন্তান বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে নাকি আমার কাবিননামার টাকা শোধ করবে। প্রতিবেশীরা জানান, বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক হওয়ায় স্থানীয় মাতব্বর ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য এলাকায় দুই দফায় সালিশ-বৈঠকের আয়োজন করেন। তবে স্বামী রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যাসন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ রাকিবুল রিনাকে ডিভোর্স লেটার (তালাকনামা) পাঠান বলে জানা গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহু মিয়া বলেন, স্থানীয় ভাবে এ বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দুই দফা সালিশÑবৈঠক বসে ছিলো। রাকিবুল ও তার পরিবার কন্যাসন্তানদের ও রিনাকে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কোনো সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নতুন কোলা গ্রামে রাকিবুল ইসলামের বাড়িতে গেলে তার পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তার বাবা শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন। মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সামাজিক অবক্ষয়ের চরম বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)