কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা মামলার রায়ে ধর্ষক আবু তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বেলা পৌনে ১২ টায় ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান ওই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আসামিকে ফাঁসির আদেশের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা আসামির সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও হত্যার পর লাশ গুম করার অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, সংঘটিত ঘটনার ১১৬ দিনের মধ্যে ওই রায় ঘোষণায়,এক নজির স্থাপন হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ধষক আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফারাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীনের ছেলে। শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা মহেশপুর ভৈরবা এলাকার নজরুল ইসলাম পরিবার নিয়ে কালীগঞ্জ বারবাজারের বাদেডিহি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্ত্রী হালিমা খাতুনও বেসরকারি সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশন-এ কাজ করেন। তারা দু’জনে বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে, চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভনে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া আবু তাহের। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়।এ ঘটনার পরদিনই পুলিশ আসামি আবু তাহেরকে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন। তাবাসসুম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন জানায়, আটকের পর তদন্ত শেষে গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরবতৃীতে গত ১৬ জুন মামলার চার্জ গঠন, ১৭ জুন সাক্ষ্য গ্রহন এবং ২১ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২২ জুন সোমবার রায় ঘোষনা করেছে আদালত। এদিকে শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা আসামি আবু তাহেরের ফাঁসি দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানান।