Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

সিলগালার পরও চলছে ‘পিয়ারলেস’ ডায়াগনস্টিক সেন্টার

এখন সময়: বুধবার, ১ জুলাই , ২০২৬, ১১:৪৪:৩৭ পিএম

বিল্লাল হোসেন : যশোরে সিলগালার পরও চলছে অবৈধ পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অভিযোগ উঠেছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে পিয়ারলেসের পরিচালক আবুল কাশেম প্রভাব খাটিয়ে রোগীর চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পূর্বের সকল অনিয়ম সংশোধন না করে চিকিৎসাসেবার নামে ফের প্রতারণার ফাঁদ পাতানো হয়েছে। বিগত দিনে প্রতারণার অভিযোগে একাধিকবার জরিমানার টাকা গুনলেও পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতারণা বন্ধ হয়নি। জানা গেছে, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে (ঘোপ নওয়াপাড়া রোড) পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার অবস্থিত। আগে প্রতিষ্ঠানটি দেখভাল করতেন জহুরুল ইসলাম। বর্তমানে পরিচালনা করছেন শহরতলী ঝুমঝুমপুর এলাকার আব্দুল খালেকের ছেলে আবুল কাশেম। গত ২০১৮ সালে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায়। যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর হলো ৭৬০৪৮। ২০১৯ সালের ৩০ জুন লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকে লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। দালালের ওপর ভর করে অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম চলে আসছিলো। এরই মধ্যে গত ১৪ বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিদর্শনে গিয়ে নানা অনিয়ম দেখতে পান যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক। অনিয়মের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালার জন্য বলা হয়। পরে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে। ওই সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক একটি নাম সর্বস্ব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। এখানে নেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিগ্রিধারী সেবিকা, উন্নত মেশিনারীজ। যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীর উপর ভর করে লাইসেন্সবিহীন পিয়ারলেসে প্রতারণা করা হচ্ছিলো। যে কারণে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিলগালার এক সপ্তাহ পর পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার খোলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই সকল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। দালালের মাধ্যমে জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ভাগানো রোগী দিয়েই চলছে পিয়ারলেস। চিকিৎসার নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতে পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ নানা অজুহাতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে হাজার হাজার টাকা। টেস্ট বাণিজ্য তাদের মুল টার্গেট। অবৈধ প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হাসপাতালের সামনে হওয়ায় দালালরাও রোগীর সাথে প্রতারণা করার সুযোগ পাচ্ছেন খুব সহজেই। বর্তমানে পিয়ারলেস প্রতারণার শীর্ষে রয়েছে। প্যাথলজি রিপোর্টের মান নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। নিজস্ব প্যাথলজিস্ট বা চিকিৎসক না থাকাই কম্পিউটারে ফরমেট করে রাখা প্যাডের উপর নিজেদের ইচ্ছা মতো প্যাথলিজর রিপোর্ট তৈরি করে তা রোগীদের মাঝে দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পিয়ারলেস পরিচালনাকারী আবুল কাশেম জানান, লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। অনিয়ম ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। নানা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়। পিয়ারলেসের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেয়া হয়নি। যদি কার্যক্রম চালানো হয় সেটা অবৈধ। বিষয়টির খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২০২২ সালের ৯ জুন যশোর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিকে অভিযান চালায়। অভিযানে হাবিবুর রহমান নামের এক ভুয়া চিকিৎসক আটক করা হয়। তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমান আদালত।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)