নিজস্ব প্রতিবেদক: অবিলম্বে ঢাকাগামী প্রভাতী ট্রেনসহ ছয়দফা দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে যশোরবাসী। সোমবার দুপুরে বিরূপ আবহাওয়ার মাঝেও ‘বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন। অবস্থান কর্মসূচি থেকে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়ে দাবি আদায়ে রেল অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার দুপুরে মুষলধারে বৃষ্টির মাঝেই বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ যশোর রেলওয়ে জংশনে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঢাকা-যশোর পদ্মা সেতু রেল প্রকল্পে’র শুরু থেকেই যশোরবাসী বঞ্চিত এবং প্রতারিত হয়ে আসছে। প্রকল্পের নাম ‘ঢাকা-যশোর’ হলেও আমরা মাত্র একটি ট্রেন পেয়েছি। তাও আমাদের কাক্সিক্ষত সময়ে নয়। প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার পদ্মাসেতু প্রকল্পে রেলপথে দিনে মাত্র একটি ট্রেন দুইবার যাতায়াত করে-যা রাষ্ট্রীয় অর্থের চরম অপচয়ের শামিল! তাই প্রথম থেকেই যশোরবাসী দাবি করে আসছে, ভোরবেলা যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে একটি ‘প্রভাতি ট্রেন’ দেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ নিজ বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় গিয়ে অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারেন। এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশ্যে একটি ফিরতি ট্রেন দেয়া হোক, যাতে কাজ শেষে মানুষ নিজ ঘরে ফিরে ঘুমাতে পারেন। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন সুনির্দিষ্ট ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন। এগুলো হলো, অবিলম্বে বেনাপোল/দর্শনা সীমান্ত-যশোর-ঢাকা রুটে ১টি প্রভাতি আন্তঃনগর ট্রেনসহ মোট ৩টি নতুন আন্তঃনগর ট্রেন চালু করতে হবে। সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সকল আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করতে হবে। দর্শনা-খুলনা রুট এবং বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডবল রেল লাইন স্থাপন করতে হবে। বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কমিউটর ট্রেন চালু করতে হবে। সিঙ্গিয়া রেল স্টেশনে অবিলম্বে ‘রেল কনটেইনার টার্মিনাল’ চালু করে বাণিজ্যিক সুবিধা বাড়াতে হবে। রেলকে দেশের গণযোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী বলেন, আমরা ২০২৩ সাল থেকে এই ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছি। এই সময়ে আমরা রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলের ডিজি, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেছি। রেল সচিব ও ডিজির সাথে যৌথ মতবিনিময় ছাড়াও একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুইবার রেল অবরোধ ও কালো পতাকা প্রদর্শন এবং রেলের ডিজিকে অবরুদ্ধ করার মতো কর্মসূচি পালন করেছি। সেই আন্দোলনের মুখে রেলের সচিব ও ডিজি আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, মার্চ/এপ্রিল ২০২৬-এর মধ্যে আমাদের আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন দেয়া হবে। এখন জুলাই ২০২৬ চলমান, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কোনো বাস্তবায়ন আমরা দেখিনি। গত জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রভাতি ট্রেন দেয়ার আলটিমেটাম থাকলেও রেল কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেয়নি। ফলে আমরা যশোর রেল স্টেশন প্ল্যাটফর্মে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আগামী এক মাসের মধ্যে আমাদের দাবি আদায় না হলে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে রেল অবরোধের কর্মসূচি প্রদানে বাধ্য হবো। অবস্থান কর্মসূচিতে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, কমিটির নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, রুহুল আমিন, অ্যাড আমিনুর রহমান হিরু, মাহাবুবুর রহমান মজনু, অ্যাড মাহমুদ হাসান বুলু, অ্যাড আবুল কায়েস, হাচিনুর রহমান, অধ্যাপক সোলজার রহমান, সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, হারুন অর রশিদ, আফজাল হোসেন দোদুল, সাঈদা বানু শিল্পী প্রমুখ।