নিজস্ব প্রতিবেদক : বাঘারপাড়ার রায়পুর গ্রামের যুবক সাহাবীর হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণকারী পিতা-পুত্রকে দুই দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা আসামিদের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিরা হলো কৃষ্ণনগর গ্রামের আবু হাসান মণ্ডল ও তার ছেলে নাজমুস সাকিব। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, গত ২৫ মে সকালে রায়পুর গ্রামের আবু হানিফ ও তার ছেলে সাহাবীর রায়পুর বাজারে ৫০ মণ ধান বিক্রির জন্য নিয়ে যান। প্রতি মণ ১,১৭০ টাকা দরে আসামি হাসান মণ্ডলের কাছে ধান বিক্রির চুক্তি হয়। তবে ওজন কম দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে আসামি হাসান মণ্ডলের নির্দেশে তার ছেলে সাকিব আড়তে থাকা একটি ধারালো বার্মিজ চাকু দিয়ে হানিফকে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে জখম করে। পিতা হানিফকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে সাহাবীরকেও সাকিব ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম করে। চিৎকারে বাজারের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘারপাড়া, পরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত সাহাবীরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ জুন ঢাকায় সাহাবীর মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের পিতা আবু হানিফের করা মামলায় ২ জুলাই আসামি আবু হাসান ও তার ছেলে সাকিব আদালতে আত্মসমর্পণ করে কারাগারে যান। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আটক দুজনের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে বিচারক তাদের দুই দিন করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন।