ক্রীড়া প্রতিবেদক : টাইব্রেকার জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে পেলো সুইজারল্যান্ড। ৯০ মিনিটের খেলায় কোনো গোল না হওয়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিট মাঠে গড়ায় সুইজারল্যান্ড-কলম্বিয়া ম্যাচ। কিন্তু সেখানেও থাকে গোলশূন্য সমতা। পরে টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ালে সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে সুইজারল্যান্ড। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানাডার ভ্যাঙ্কুবারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গোলশূন্য সমতায় থাকলে টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখান সুইস গোলকিপার প্রথম শট নেয় কলম্বিয়া। হুয়ান ফের্নান্দো কুইন্তেরো। শট নেওয়ার আগে রেফারি দুই গোলরক্ষককে শেষবারের মতো কিছু নির্দেশনা দেন। এরপর কুইন্তেরো জোরালো শটে বলটি সোজা গোলের মাঝখান দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন। নিখুঁত সূচনা করে পেনাল্টি শুটআউটে এগিয়ে যায় কলম্বিয়া। সুইজারল্যান্ডের হয়ে প্রথম পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন গ্রানিত জাকা। কলম্বিয়ার গোলরক্ষক সঠিক দিক অনুমান করে বলে হাতও লাগিয়েছিলেন। কিন্তু শটটি এতটাই জোরালো ছিল যে, তার হাত ছুঁয়েও বল জালে জড়িয়ে যায়। ফলে শুটআউটে নিজেদের প্রথম পেনাল্টি থেকে গোল আদায় করে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়ার হয়ে পরের পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরা ডাভিনসন সানচেস। তবে এবার লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি তিনি। জোরালো শটে বলটি গোলের মাঝখান দিয়ে পাঠানোর চেষ্টা করলেও সেটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে শুটআউটে বড় সুযোগ হাতছাড়া করে কলম্বিয়া। দীর্ঘদিনের এসিএল চোট কাটিয়ে ফেরা জেকি আমদৌনি এবার পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন। দৌড়ের মাঝপথে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে আগে ঝাঁপ দিতে বাধ্য করেন তিনি। এরপর ঠান্ডা মাথায় বলটি বিপরীত কোণে পাঠিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাসে পেনাল্টি থেকে গোল করে শুটআউটে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে রাখেন আমদৌনি। কলম্বিয়ার হয়ে এবার পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন জন ক্যাম্পাজ। তিনি কোনো ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে গোল করেন এবং শুটআউটে আবারও সমতায় ফেরান কলম্বিয়াকে।সুইজারল্যান্ডের হয়ে পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন মানুয়েল আকাঞ্জি। কিন্তু ভয়াবহভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। জোরালো শটে বলটি গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যায়। শটটি মিস করার পর হতাশায় হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন আকাঞ্জি। এর আগেও ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি শুটআউটে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। কলম্বিয়ার হয়ে এবার পেনাল্টি নিতে আসেন কুচো হার্নান্দেস। তিনি ডান দিকে জোরালো শট নিলেও সুইজারল্যান্ডের গোলরক্ষক দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে সেটি ঠেকিয়ে দেন। অসাধারণ সেই সেভে পেনাল্টি শুটআউটে বড় সুবিধা পেয়ে যায় সুইজারল্যান্ড। সুইজারল্যান্ডকে জয়ের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে এবার পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন সেড্রিক ইত্তেন। দারুণ আত্মবিশ্বাসে বলটি গোলের ঠিক মাঝখান দিয়ে জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। এই গোলে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যায় সুইজারল্যান্ড।কলম্বিয়ার হয়ে শেষ পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন লুইস দিয়াজ। দলকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখতে তার গোল করতেই হতো। দৌড়ের মাঝপথে সামান্য থেমে গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করেন তিনি। এরপর ঠান্ডা মাথায় বলটি বাঁ দিকের নিচের কোণে পাঠিয়ে জালে জড়িয়ে দেন। গোল করে কলম্বিয়ার আশা বাঁচিয়ে রাখেন লুইস দিয়াস। সুইজারল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নেওয়ার সুযোগ নিয়ে পেনাল্টি স্পটে দাঁড়ান রুবিন ভার্গাস। তিনি কোনো ভুল করেননি। ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে দিয়ে জয় নিশ্চিত করেন ভার্গাস। পেনাল্টি শুটআউটে কলম্বিয়াকে হারিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে সুইজারল্যান্ড। নাটকীয় লড়াই শেষে তারা নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। ১২০ মিনিটের খেলায় মোট ২২টি আক্রমণ হয়েছে। যেখানে ১৫টি কলম্বিয়া আর ৭টি করেছে সুইজারল্যান্ড। কলম্বিয়া ৩টি ও দুটি করে লক্ষ্যে রেখেছে সুইসরা। ৫৩ শতাংশ বল দখলে রাখে সুইসরা আর ৪৭ শতাংশ লাতিনের কলম্বিয়া।