ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : সবুজে ভরা একটি ক্ষেত। বাঁশের মাচাজুড়ে ঝুলছে কচি কচি লাউ। প্রতিটি লতায় ছিল একটি কৃষক পরিবারের স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যতের হিসাব। সেই স্বপ্নের ওপরই নেমে এসেছে দুর্বৃত্তের নির্মম কোপ। এক রাতের অন্ধকারে গোড়া থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে শত শত লাউগাছ। সকালে জমিতে এসে কৃষক দেখেছেন,কয়েক মাসের তিল তিল করে গড়ে তোলা পরিশ্রম মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে। চোখের সামনে নিজের স্বপ্নকে এভাবে লুটিয়ে থাকতে দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার গোকুলনগর ইউনিয়নের উত্তরপাড়া মাঠে। ভুক্তভোগী কৃষক আলমগীর হোসেন জানান, এক বিঘা জমিতে ৪৭টি তাওয়ায় কয়েকশ’ লাউগাছের আবাদ করেছিলেন তিনি। জমি প্রস্তুত করা, বীজ সংগ্রহ, পরিচর্যা, সেচ, সার ও কীটনাশকসহ প্রতিটি ধাপে ছিল তার অক্লান্ত শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ। দিনের পর দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে তিনি লাউক্ষেতটি পরিচর্যা করেছেন। অবশেষে গাছে লাউ ধরতে শুরু করলে তার পরিবারে স্বস্তি ফিরে আসে। কয়েকদিন আগেই এই ক্ষেত থেকে প্রায় ৪০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেন আলমগীর। সামনে আরও কয়েক দফায় লাউ বিক্রি করে ভালো আয় হবে বলে আশা করেছিলেন। সেই টাকা দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ঋণ পরিশোধ এবং পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে জমিতে গিয়ে তিনি দেখেন, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা একে একে প্রায় সব লাউগাছ গোড়া থেকে কেটে দিয়েছে। ক্ষেতজুড়ে ছড়িয়ে ছিল কাটা লতা। লাউগুলো তখনও গাছে ঝুলছিল। কিন্তু গাছ কেটে দেয়ায় সেগুলোও দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সবুজে ভরা ক্ষেত মুহূর্তেই যেন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। কাটা গাছগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাক হয়ে যান কৃষক আলমগীর। বারবার লতাগুলোর দিকে তাকিয়ে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কৃষক আলমগীর হোসেন বলেন, কয়েক মাস ধরে অনেক কষ্ট করে লাউক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলেন। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে ভালো ফলনও আসছিল। সামনে আরও অনেক লাউ বিক্রির আশা ছিল। কিন্তু কে বা কারা এমন ক্ষতি করল, তা তিনি বুঝতে পারছি না। দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। প্রতিবেশী আব্দুল মালেক জানান, গত বছরও একই জমির লাউক্ষেত কেটে দেয়া হয়েছিল। এবারও একই কায়দায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা গাছ কেটে দিয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা মনে করছেন, দোষীদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আরও কৃষক এ ধরনের নাশকতার শিকার হতে পারেন। স্থানীয় হারুন অর রশিদ হেলাল বলেন, মানুষ কিভাবে একজন কৃষকের ফসলের ক্ষতি করতে পারে? এটা অত্যন্ত অমানবিক একটি কাজ। ফসলের সঙ্গে শত্রুতা জীব হত্যার শামিল। ঘটনার খবর পেয়ে শৈলকুপা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, লাউক্ষেত কেটে দেয়ার বিষয়টি তারা জেনেছেন। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।