নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের বিশিষ্ট নাট্য পরিচালক, শিশু সংগঠক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনের প্রিয়মুখ, ফুটবল রেফারি ও চিত্রাংকন শিক্ষক মনির হোসেন খান আর নেই। মঙ্গলবার ভোরে ইন্তেকাল করেছেন তিনি। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে-মুনির হোসেন খান সোমবার রাতে অসুস্থ বোধ করলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে চারটার দিকে চিকিৎসকের সকল চেষ্টাকে ব্যর্থ করে পরপারে পাড়ি জমান তিনি। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই গুণী ব্যক্তিত্ব দীর্ঘদিন ধরে যশোরের শিল্প, সংস্কৃতি ও খেলাধুলার সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। শিশু-কিশোরদের মনন গঠনে এবং নাট্যচর্চায় তার অবদান ছিল অপরিসীম। তার প্রয়াণের খবরে যশোরের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। শহরের গোহাটা সড়কস্থ বাস ভবনে ছুটে যায় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। এ সময় তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে যশোর ইনস্টিটিউট ও নাট্য সংগঠন ‘তির্যক’-এর পক্ষ থেকে তার কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী, নাট্যকর্মী, ক্রীড়া সংগঠক ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অশ্রুসিক্ত নয়নে এই গুণী শিল্পীকে বিদায় জানান। বাদ আসর যশোর দড়াটানা জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। মনির হোসেন খানের বিদায়ে যশোর কেবল একজন অভিজ্ঞ সংগঠককেই হারালো না, বরং হারিয়ে ফেলল সংস্কৃতির এক পরম সুহৃদকে।