যবিপ্রবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬ এ পদকপ্রাপ্ত কৃতী খেলোয়াড়দের এক জমকালো সংবর্ধনা দিয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান। ২৩ আগস্ট রোববার দুপুর ২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাকাডেমিক ভবনের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে এই জমকালো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ২০২৫-২০২৬ সেশনে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অসামান্য সাফল্য অর্জন করায় শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তর পদকজয়ীদের জন্য এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যবিপ্রবির খেলোয়াড়রা মোট ৫টি ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন, ২টি ক্যাটাগরিতে রানার-আপ এবং ৬টি ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় রানার-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তিগত ইভেন্টে ৩টি স্বর্ণ, ২টি রৌপ্য এবং ২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়য়ের শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবারের আসরে সর্বমোট ১৫টি ইভেন্টের মধ্যে যবিপ্রবি ১১টি ইভেন্টে অংশ নেয়। এতে ৯৩ জন খেলোয়াড়ের একটি শক্তিশালী দল অংশ নেয়, যার মধ্যে ৬৬ জন ছাত্র এবং ২৭ জন ছাত্রী। ইভেন্টভিত্তিক অর্জনের মধ্যে ফুটবল (ছাত্রী), হ্যান্ডবল (ছাত্র), হ্যান্ডবল (ছাত্রী), কাবাডি (ছাত্র) ও সাঁতার (ছাত্রী) ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন; অ্যাথলেটিক্স (ছাত্র), অ্যাথলেটিক্স (ছাত্রী), সাঁতার (ছাত্র), ভলিবল (ছাত্র) ও ভলিবল (ছাত্রী) ইভেন্টে রানার-আপ এবং ব্যাডমিন্টন (ছাত্রী), ফুটবল (ছাত্র), সাঁতার (ছাত্র), তায়কোয়ান্দো (ছাত্র), তায়কোয়ান্দো (ছাত্রী) ও টেবিল টেনিস (ছাত্র-ছাত্রী যৌথ) ইভেন্টে ২য় রানার-আপ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করে যবিপ্রবির চৌকস খেলোয়াররা। ব্যক্তিগত পদকের মধ্যে জুডো প্রতিযোগিতায় যবিপ্রবি ছাত্রীরা ১টি স্বনামধন্য স্বর্ণ পদক এবং ছাত্ররা ২টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে। এছাড়া বাস্কেটবল ও ব্যাডমিন্টন (ছাত্র) ইভেন্টেও যবিপ্রবির দলগুলো সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এই অনুষ্ঠানে সকল কোচ ও ম্যানেজারবৃন্দকে তাঁদের মেধা, অভিজ্ঞতা, অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রতি সম্মান জানিয়ে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের প্রাক্তন পরিচালকদেরও এই অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই ‘বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫-২০২৬’-এ পদকজয়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী খেলোয়াড়দের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। খেলোয়াড়দের গৌরবোজ্জ্বল অর্জনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “খেলাধুলা শুধু শারীরিক বিকাশ ঘটায় না, এটি আমাদের নিয়মানুবর্তিতা এবং দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতাও শেখায়। আমাদের শিক্ষার্থীরা মাঠের লড়াইয়ে যে দক্ষতা ও ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছ, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করে যে যবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা কেবল পড়াশোনায় নয়, ক্রীড়াঙ্গনেও দেশসেরা হওয়ার যোগ্যতা রাখে।” উপাচার্য খেলোয়াড়দের শুধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েই সীমাবদ্ধ না থেকে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অংশ নেওয়ার জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মানোন্নয়নে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আশা করি, এই সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে আরও বড় সাফল্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে এবং তারা একদিন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” অপর বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “জীবন মানেই নানা ঘাত-প্রতিঘাত। তবে সব বাঁধা মোকাবিলা করে শিক্ষার্থীদের বারবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। জয়-পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সফলতার জন্য নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।” শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক ড. অভিনু কিবরিয়া ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ। উৎসবমুখর পরিবেশে সমগ্র অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন শরীরচর্চা শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াহেদ ও ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর রায়হান রাকিব।