মাগুরা প্রতিনিধি মাগুরা জেলা বাস-মিনিবাস মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে সভাপতি পদে ভোট পুন:গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় এ পদে দেয়া ভোট পুনরায় গণনা করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার দিনব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষে রাতে সভাপতি পদে দোয়েল প্রতীকের প্রার্থী ফয়সাল আহমেদকে ১ হাজার ৬৭১ ভোট পেয়ে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী উড়োজাহাজ প্রতীকের প্রার্থী ইসমাইল মল্লিক পেয়েছেন ১ হাজার ৬৩৯ ভোট। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩২। তবে ফলাফল ঘোষণার পরপরই এতে আপত্তি জানান ইসমাইল মল্লিকের সমর্থকেরা। ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে তারা পুনরায় ভোট গণনার দাবি জানান। অভিযোগ রয়েছে, ফলাফল ঘোষণার সময় সমর্থকেরা ফলাফলের সিট কেড়ে নেন। পরে পুনরায় ফলাফল ঘোষণা করতে গেলে মাইকের তার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ দুই নির্বাচন কমিশনারকে রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে ইসমাইল মল্লিকের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাতে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমেদ ও পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। তাদের উপস্থিতিতে সভাপতি পদে ভোট পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে নির্বাচন কমিশন ভোটকক্ষ সিলগালা করে দেয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ২টায় সভাপতি পদে দেয়া ভোট পুনরায় গণনা করা হবে। পুনর্গণনার পরই এ পদে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে। মাত্র ৩২ ভোটের ব্যবধানের এ নির্বাচন এখন পুনর্গণনার টেবিলে। শেষ পর্যন্ত ফয়সাল আহমেদ নাকি ইসমাইল মল্লিককে সভাপতি পদে বিজয়ী হন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে পুনর্গণনা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৪ হাজার ৬৮৮ জন। বিভিন্ন পদে মোট ৪৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন মাগুরা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহেদ হোসেন টগর। নির্বাচনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ছিল সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা। সভাপতি পদে আব্দুর রশিদ মোল্লা, ফয়সাল আহমেদ খান ও ইসমাইল হোসেন মল্লিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়েছেন মারুফ হোসেন, রাজন হক ও সেলিম রেজা। ভোট শেষে সাধারণ সম্পাদক পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন মারুফ হোসেন।