নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরতলীর বাহাদুরপুর গ্রামে গৃহবধূ উর্মি খাতুনকে হত্যার অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। সোমবার নিহতের পিতা সদরের তালবাড়িয়া গ্রামের আয়ুব আলী বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার আদেশ দিয়েছেন কোতয়ালি থানার ওসিকে। আসামিরা হলো-সদরের হাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মিলন হোসেন ও তার স্ত্রী নাসরিন খাতুন এবং মা আফরোজা বেগম, তালবাড়িয়া গ্রামের মৃত আমিন সরদারের ছেলে মোলাম। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, প্রায় ১৩ বছর আগে যশোর কোতোয়ালি থানার তালবাড়ীয়া গ্রামের মোঃ আয়ুব আলীর মেয়ে উর্মি খাতুনের সাথে ঝিনাইদহের কালুগঞ্জ থানার মোল্যাডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহীম হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে তিনটি সন্তান রয়েছে। ইব্রাহিম হোসেন বিয়ের কয়েক বছর তার শ্বশুর বাড়ি এসে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস শুরু করেন। গত ৫ বছর আগে ইব্রাহীম হোসেন মালয়েশিয়া যান। প্রবাসে থাকাকালে তিনি হাশিমপুর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় স্ত্রীর একাউন্টে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৬ লাখ টাকা পাঠান। ?ব্যাংকে যাতায়াতের সুবাদে ১ নম্বর আসামি মিলন হোসেনের সাথে উর্মির পরিচয় ও অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে আসামীরা যোগসাজশ করে ওই টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে ইব্রাহীমের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করে গোপনে মিলন হোসেনের সাথে উর্মির বিয়ে দেয়। প্রবাস থেকে ফিরে বিষয়টি জানতে পেরে ইব্রাহীম হোসেন টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৮ আগস্ট সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে বাহাদুরপুর গ্রামে জনৈক আকরামের ভাড়া বাসায় আসামী মিলন হোসেন, তার মাতা ও প্রথম স্ত্রী একত্রিত হয়ে আসামি মোলামের পরামর্শে ঘরের দরজা বন্ধ করে উর্মি খাতুনকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে ঘরের টিনের চালের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে লাশ ঝুলিয়ে রাখে আসামিরা। ?ঘটনার পর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। প্রথমে থানায় মামলা করতে গেলে আদালত থেকে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আসামীদের হুমকি ও স্থানীয় মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি আদালতে এ মামলা করেছেন।