ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে একটি মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের (বলাৎকার) অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আবুল বাশারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। এর আগে সোমবার রাতে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা কোটচাঁদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।
এজাহার তার ছেলেসহ আরও দুই শিশুকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। গ্রেপ্তার আবুল বাশার কোটচাঁদপুর উপজেলার হরিন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কোটচাঁদপুর পৌরসভার দুধসর এলাকায় দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক। ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র।
পুলিশ ও কয়েকজন অভিভাবক জানান, মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীকে কয়েকদিন ধরে ধর্ষণ করেন প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার। গতকাল এক শিক্ষার্থীকে দেখতে তার দাদা মাদ্রাসায় এলে তার কাছে বিষয়টি জানায় ভুক্তভোগী। তিনি বাড়ি ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে তারা সন্ধ্যার দিকে মাদ্রাসায় এসে ওই শিক্ষকের ওপর চড়াও হয়। খবর পেয়ে পুলিশ মাদ্রাসা থেকে ওই শিক্ষককে আটক করে। এ সময় তার ব্যক্তিগত কক্ষ থেকে যৌন উত্তেজক বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উদ্ধার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে রাতে তাঁর বিরুদ্ধে তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর বাবা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে, যা কোনো অভিভাবকের মেনে নেওয়া সম্ভব না। বিষয়টি জানার পর সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাদরাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে এসেছি। আমরা শিক্ষক আবুল বাশারের বিচার চাই।’ অভিযোগের বিষয়ে গ্রেপ্তারের সময়ে আবুল বাশার তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি। কোটচাঁদপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, গ্রেপ্তার আবুল বাশারকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।