Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

সরু সিঁড়ি, বদ্ধ কক্ষে গ্যাস সিলিন্ডার : আন্ডারগ্রাউন্ডে ‘মৃত্যুফাঁদ’ বটতলা হোটেল!

এখন সময়: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০২৬, ১০:৫৮:৩১ পিএম

বিল্লাল হোসেন : যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় আন্ডারগ্রাউন্ডে পরিচালিত হচ্ছে বটতলা হোটেল। বদ্ধ কক্ষ, সরু প্রবেশ ও বের হওয়ার সিঁড়ি এবং গ্যাস সিলিন্ডারে রান্না করা হচ্ছে। আবার হোটেলের সামনে ব্যস্ততম সড়কের জায়গা দখল করে চুলা জ্বালিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন খাবার। এতে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সরেজমিনে দেখা যায়, দড়াটানার ব্যস্ততম এলাকায় একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড অংশে বটতলা হোটেলটি পরিচালিত হচ্ছে। নিচতলার বদ্ধ কক্ষে ক্রেতাদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। হোটেলে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত সিঁড়িটিও তুলনামূলক সরু। রান্নার কাজে গ্যাস সিলিন্ডার ও গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা হচ্ছে। হোটেলের সামনের ব্যস্ততম সড়কের পাশের জায়গাও খাবার তৈরির কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে চুলা জ্বালিয়ে বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা হয়। এতে সড়কের পাশের জায়গা সংকুচিত হয়ে পথচারীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ব্যস্ত এলাকায় পথচারী ও যানবাহনের চলাচলের মধ্যে এভাবে রান্নার কার্যক্রম পরিচালনার কারণে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হোটেলটির আন্ডারগ্রাউন্ডের বদ্ধ কক্ষ, সরু সিঁড়ি এবং গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্রেতা ও কর্মচারীদের নিরাপদে বের হওয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোনো কারণে আগুন লাগলে বদ্ধ কক্ষে দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি সরু সিঁড়ি দিয়ে একসঙ্গে বের হওয়ার সময় তৈরি হতে পারে বাড়তি ঝুঁকি। বিশেষ করে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথ আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র জানায়, প্রশাসনিক বিভিন্ন অনুমোদন ছাড়াই ঝুঁকির মধ্যে বটতলা হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছে। হোটেল মালিক আবুল কালাম আর্থিক লাভবান হতে মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সহজ-সরল মানুষ বিষয়টি না বুঝে হোটেলের আন্ডারগ্রাউন্ডে খাবার খেতে যাচ্ছে। এদিকে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশীষ কুমার দাস ও শামিউল আলমের নেতৃত্বে হোটেলটিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় রান্নাঘরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়ায় হোটেল মালিক আবুল কালামকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপরও অনিয়মের মধ্যেই হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছে। সচেতন মহলের অভিমত, মানুষের জীবন ঝুঁকি এড়াতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বটতলা হোটেলটি বন্ধ ঘোষণা করা হোক। হোটেলটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স বা অনুমোদন আছে কি না জানতে বটতলা হোটেলের মালিক আবুল কালামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁর ছেলে জুয়েল হোসেন ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি জানান, হোটেলটি নতুন করে চালু করা হয়েছে। এখনো ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়নি। তিনি আরও জানান, আন্ডারগ্রাউন্ডের বদ্ধ কক্ষে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা হয় এবং যাতায়াতের সিঁড়িও ছোট। অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রেতাদের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। যশোর সদর উপজেলা স্যানেটারি ইন্সপেক্টর মহিবুল ইসলাম জানান, স্বাস্থ্যবিধি ও খাদ্য নিরাপত্তা আইন না মেনে বটতলা হোটেল পরিচালনা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের সময় মালিককে সতর্ক করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের সহকারী পরিচালক আব্দুস সালাম জানান, অধিকাংশ খাবারের হোটেল বা রেস্তোরাঁ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে পরিচালিত হলেও শুধু ট্রেড লাইসেন্স থাকলেই সব ধরনের প্রশাসনিক অনুমোদন সম্পন্ন হয় না। রেস্তোরাঁ পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নিবন্ধন ও লাইসেন্স নেওয়ার পাশাপাশি অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। প্রতিষ্ঠানের অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অনুমোদন বা লাইসেন্সের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখতে হয়। বটতলা হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)