Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

যশোরে দাদার কবরের পাশে চিরঘুমে জান্নাতুল, আটক সিএনজি চালক

এখন সময়: শনিবার, ২৪ অক্টোবর , ২০২৬, ১২:৪৪:১০ এম
যশোরে দাদার কবরের পাশে চিরঘুমে  জান্নাতুল, আটক সিএনজি চালক

বিল্লাল হোসেন : কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধারের এক দিন পর যশোরের গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনকে (১৫)। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জানাজা শেষে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এদিকে ঘটনাস্থলের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক সুমন হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ। জান্নাতুল ছাতিয়ানতলা গ্রামের আব্দুল আলীমের মেয়ে। বাবার ওষুধ কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লায় বসবাস করত সে। সেখানে স্থানীয় ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল জান্নাতুল। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার ভোরে জান্নাতুলের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। যে মেয়েটির হাসি-আনন্দে মুখর থাকার কথা ছিল পরিবারের উঠান, তার নিথর দেহ ফিরল সেই বাড়িতে। আদরের মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন স্বজনেরা। এমন করুণ পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। সবার চোখে-মুখে ছিল শোক আর হারানোর বেদনা। পুলিশের একটি সূত্র জানায়, জান্নাতুলের মরদেহ ধানক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় পড়ে ছিল। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিএনজিচালক সুমন বেশির ভাগ সময় রাতে পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন। তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তার স্বভাব-চরিত্র নিয়েও এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে। কিছুদিন আগে স্ত্রীকে মারধর করে তার হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে সুমনের বিরুদ্ধে। পরে শ্বশুরবাড়ির তৈরি করা ঘর বিক্রি করে তিনি অন্যত্র চলে যান বলে জানা গেছে। লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশার সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে চালকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম সুমন। তিনি লালমাই থানার কচুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার শ্বশুরবাড়ি জয়নগর গ্রামে। এরপর তাকে আটকের জন্য অভিযান শুরু হয়। তবে মুঠোফোন ব্যবহার না করায় তার অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফর রহমান জানান, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সুমনের খালাশাশুড়ি ও ভগ্নিপতিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। আটকের পর সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, চার দিন আগে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় জান্নাতুল। পরে ওই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে যায় সে। ৭ অক্টোবর দুপুরে কুমিল্লার উদ্দেশে বাসে ওঠে জান্নাতুল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার বিশ্বরোড এলাকায় হোটেল নূরজাহানের সামনে তার অবস্থান শনাক্ত হয়। রাত ২টার দিকে বাস থেকে নামার পর বাবার সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা হয় তার। বাস থেকে নামার পর জান্নাতুল রহস্যজনকভাবে পরিবারের সদস্যদের ফোন নম্বর ব্লক করে দেয়। তবে রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার ফোনে লাইভ লোকেশনসহ একটি বার্তা পাঠায় সে। সেখানে লেখা ছিল, ‘আমি আটকে আছি, আমাকে নিয়ে যাও।’ মাঝরাতে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় তখন বার্তাটি দেখতে পারেননি। সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়ের পাঠানো লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে লালমাই এলাকায় পৌঁছান তিনি। তবে তার আগেই পুলিশ ধানক্ষেত থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলের পাশেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। পরে লালমাই থানায় গিয়ে মরদেহটি নিজের নিখোঁজ মেয়ে জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন আব্দুল আলীম। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে যশোরের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার ভোরে মরদেহ পৌঁছালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাদার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)