Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

সুন্দরবনে অবমুক্ত করা সেই বাঘিনী এখন কোথায় ? নিখোঁজ তিন মাস

এখন সময়: বুধবার, ১৪ অক্টোবর , ২০২৬, ০৯:৪৪:১৯ পিএম
সুন্দরবনে অবমুক্ত করা সেই বাঘিনী  এখন কোথায় ? নিখোঁজ তিন মাস

নকিব সিরাজুল হক, বাগেরহাট: সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এলাকায় অবমুক্ত করার পর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ত সেই বাঘিনীটি। সুন্দরবনের ৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও ধরা পড়েনি তার কোন গতিবিধি। বাঘিনীটির সন্ধান না মেলায় বন বিভাগ হাল ছেড়ে দিয়ে গত সপ্তাহে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরা তুলে এনেছে। অবমুক্তির পর বাঘিনীটি ভাগ্যে কি ঘটেছে ? শারীরিক ভাবে দুর্বল থাকা মারা গেছে, বেঁচে আছে-না কী আবারো চোরা শিকারীদের কবলে পড়ে এবার মিয়ানমার-থাইল্যান্ড-লাউস সীমান্তের আন্তর্জাতিক চোরাবাজার ‘গোল্ডেন ট্রঙ্গল’এ পাচার হয়ে গেছে ? বন বিভাগ বাঘিনীটিকে কোন ট্রাকিং ডিভাইস না পরিয়ে সুন্দরবনে অবমুক্ত করায় স্বাভাবিক ভাবে এমন সব প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তবে, বন বিভাগ জোর দিয়ে বলছে, বাঘিনীটি বেঁচে আছে। বাঘিনীটির আবাসস্থলে অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস করায় সে নদী সাঁতরে দূরে বনের অন্য কোন স্থানে চলে গেছে। অবমুক্তির পরে পর্যবেক্ষণে ১৫০ মিটার পর্যন্ত বাঘিনীটির পায়ের ছাপ দেখা গেছে। বনরক্ষীরা গত তিন মাস ধরে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে একাধিকবার মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে পায়ে হেটে অনুসন্ধান চালিয়েও বাঘ মারা যাবার কোন আলামত মেলেনি। আগামী বছরের শুরুতে গোটা সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংএর মাধ্যমে বাঘ শুমারি শুরু হলে তখন এই বাঘিনীটির সন্ধান মিলবে বলে আশাবাদী সুন্দরবন বিভাগ। গত ৩ জানুয়ারি বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের বৈদ্যমারী টহল ফাঁড়ির আওতাধীন শরকির খালসংলগ্ন বনে চোরাশিকারিদের ফাঁদে আটকা পড়া বাঘিনীটির সামনের বাঁ পায়ে গুরুতর ক্ষত সৃষ্টি হয়ে পচন ধরে। এই অবস্থায় বন বিভাগ ফাঁদ থেকে উদ্ধার করে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের ছয় মাসের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ৬ মাসে সুস্থ হয়ে ওঠে বাঘিনী। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএন এর কাছ থেকে নিধারিত সময়ের মধ্যে স্যাটেলাইট কলার না পাওয়ায় ১০ বছর বয়স্ক এই বাঘিনীটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণে রাখতে ৮ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো হয় ২০টি সিসি টিভি ক্যামেরা। এরপর গত ১২ জুলাই উদ্ধার হওয়া স্থানের কাছে আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র সংলগ্ন বনাঞ্চলে কোন প্রকার ট্রাকিং ডিভাইস পরানো ছাড়াই অবমুক্ত করা হয় বাঘিনীকে। এই প্রথমবার কোন বাঘকে চিকিৎসা শেষে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়। তবে, অবমুক্তির পর সেসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, খাঁচা থেকে বের হয়ে সুন্দরবনে লাফিয়ে পড়ে বাঘিনীটি ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ে। এমনকি শক্তভাবে দাঁড়াতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল তার। বার বার ফিরে তাকাচ্ছিল পেছনে। কিন্তু অবমুক্তির তিন মাসের মধ্যে ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটি ক্যামেরাতেও ছবি না পাওয়ায় পরিবেশবাদীদের মধ্যে বাঘিনীটির বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে সুন্দরবন সন্নিহিত পাঁচ জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের সংগঠন সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি পরিবেশবিদ মনিরুজ্জামান নাসিম আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিজের আবাসভূমি থেকে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা শেষে কোন প্রকার ট্রাকিং ডিভাইস না পরিয়ে বাঘিনীটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিলনা। ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটি ক্যামেরাতেও অবমুক্ত করা বাঘিনীর ছবি না পাওয়ায় এখন বন বিভাগের কি বলার আছে। তারা বলছে ওই বাঘিনীটির আবাসস্থলে অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় সে অন্য এলাকায় চলে গেছে। ৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরায়তো সেই ছবি থাকার কথা। বন বিভাগ তা দেখাতে পারছেনা। ট্রাকিং ডিভাইস পরানো থাকলে সুন্দরবনের কোন এলাকায় বাঘিনীটি রয়েছে তা সহজেই বের করা সম্ভব ছিল। দূর্গম সুন্দরবনে অনেক কিছুই ঘটে, আমরা গণমাধ্যম কর্মীরা তা জানলেও প্রমানের অভাবে অধিকাংশই প্রকাশ করতে পারিনা। ম্যানগ্রোভ এই বিশাল বনে আগের থেকে বন্যপ্রাণী পাচার অনেক কমে আসলেও শিকারিদের অপতৎপরাতা বনরক্ষী সংকটে পুরোপুরি দমন করাও প্রায় অসম্ভব। অবস্থাদৃষ্টে এখন এটা স্পষ্ট বাঘিনীটি অবমুক্তর পর হয়তো মারা গেছে, না হয় ফের শিকারিদের র্টাগেটে পরিনত হয়েছে। পরে বনদস্যুদের সহয়তায় গোল্ডেন ট্রঙ্গল’এ পাচার হয়ে গেছে। সুন্দরবন রক্ষায় আমারা’র সমন্বয়কারী পরিবেশবিদ নূর আলম সেখ বলেন, অবমুক্তির তিন মাস মধ্যে ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার একটিতেও বাঘিনীটি ছবি না পাওয়ায় সত্যই ভাবনার বিষয়। বাঘিনীটি অবমুক্ত করার সময় ভিডিওতে দেখা গেছে সে পুরোপুরি সুস্থ ছিলনা। চলাচলে ক্ষিপ্রতা ছিলনা। খাঁচা থেকে বের হয়ে সুন্দরবনে লাফিয়ে পড়ে বাঘিনীটি ডানে-বাঁয়ে হেলে পড়ছিল। এমনকি শক্তভাবে দাঁড়াতেও কিছুটা কষ্ট হচ্ছিল। এমন শারীরিক অবস্থায় বাঘটিকে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে অবমুক্ত করায় সে স্বাভাবিক ভারে শিকার ধরে খেতে পারেনি। অন্য এলাকায় চলে যাবার শক্তিও তার ছিলনা। অবমুক্তি করা বাঘিনীটি মারা গিয়ে থাকতে পারে বা ফের শিকারিদের কবলে পড়ে এবার প্রাণ হারিয়েছে। বাঘিনীটি অবমুক্তির পর দেড়শ মিটার পথে তার পায়ের ছাপ দেখা গেলেও আর পায়ের ছাপ দেখা যায়নি কেন ? বিষয়টি বন বিভাগের খুলে বলতে হবে। এবার এই বাঘিনীটির ভাগ্যে আসলে ঘটেছে আমরা তা জানতে চাই। সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বাঘিনীটি অবমুক্তির পর দেড়শ মিটার পথে তার পায়ের ছাপ দেখা যায়। চেতনানাষক দিয়ে অচেত করার পর অবমুক্তির সময়ে কিছুটা দূর্বল থাকলেও পরে বাঘিনীটির স্পষ্ট পায়ের ছাপই বলে দেয় তার অবস্থা স্বাভাবিকই ছিল। ৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বসানো ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার পাশাপাশি আন্দারমানিক এলাকাজুড়ে বন বিভাগের নিবিড় নজরদারিতে চলছে। এসব ক্যামেরায় গত তিন মাসে অন্য তিনটি বাঘিনীর ছবি ধরা পড়েছে। তবে, অবমুক্ত করা বাঘিনীর কোন ছবি পাওয়া যায়নি। ক্যামেরায় অবমুক্ত বাঘিনীর ছবি না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, সে মারা গেছে বা অন্য কিছু হয়েছে। ওই বাঘিনীটির আবাসস্থলে অন্য তিনটি বাঘিনী বসবাস শুরু করায় হয়তো সে অন্য এলাকায় চলে গেছে। একটি বাঘ সাধারণত ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার এলাকায় বিচরণ করে থাকে। হয়তো সে অন্য এলাকায় চলে যাওয়ায় ক্যামেরার আওতায় নেই। তাই সব ক্যামেরা সুন্দরবন থেকে তুলে আনা হয়েছে। বাঘিনীটি মারা যায়নি এটা সত্য বা শিকারিদের কবলে পড়ে পাচারও হয়ে যায়নি। শিকারিদের কবলে পড়লে ৪০টি ট্র্যাপিং ক্যামেরার তা ধরা পড়তোৃ। বনরক্ষীরা গত তিন মাস ধরে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যে একাধিকবার মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে পায়ে হেটে অনুসন্ধান চালিয়েও বাঘ মারা যাবার কোন আলামত পায়নি। আগামী বছরের শুরুতে গোটা সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিংএর মাধ্যমে বাঘ শুমারির সময়ে এই বাঘিনীটির সন্ধান মিলবে বলে আশাবাদী সুন্দরবন বিভাগের এই কর্মকর্তা।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)