নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন-সংসদে সমস্যার সমাধান না হলে আজকের সাত দফা শেষ পর্যন্ত এক দফায় রূপান্তরিত হবে। সরকারকে আমরা সেইটুকু সময় দিতে চাই। আমরা সংসদে বসেই গণভোটের গণরায় ও জুলাই হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্নসহ ৭ দফা দাবির সমাধান করতে চাই। কিন্তু তা নাহলে আবারও দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে গণ বিপ্লবের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে সরকার পতনের একদফার আন্দোলনের ডাক দিতে আমাদের বাধ্য করবেন না। শনিবার সন্ধ্যায় লংমার্চ পূর্বক যশোরের মুড়লী মোড়ের পথসভায় জামায়াতের আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। লংমার্চের এই পথ সভা শেষ পর্যন্ত জনসভায় রুপান্তরিত হয়। যশোরের পথসভা শেষে জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে লংমার্চের গাড়িবহর শহরের মণিহার, বারান্দীপাড়া, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড়, নতুন উপশহর খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি, চুড়ামনকাটি,সাতমাইল হয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা হয়ে ঝিনাইদহের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। এসময় রাস্তার দুই ধারে শত শত নারী পুরুষ দাঁড়িয়ে লংমার্চের বহরকে স্বাগত জানান। এর আগে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান ও সেক্রেটারী জেনারেল গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে স্বাগত জানান। এখানে এক সংক্ষিপ্ত পথ সভায় আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান বক্তৃতা করেন। পরে সন্ধ্যা ৬ টায় লংমার্চের গাড়িবহর যশোর শহরের মুড়লী মোড়ে লংমার্চের ১১ দলীয় জোটের পথসভার স্থলে পৌঁছায়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেন, যশোরসহ এপর্যন্ত ৮টি জনসভা এবং কয়েকটি পথসভায় বক্তৃতা করেছি। আমরা ৭ দফার যে দাবি জানাচ্ছি তা আমাদের দলের নয়, এই দাবি জনগণের। সত্তর শতাংশ জনগণ গণভোটের পক্ষে রায় দিয়েছে। সরকার জনগণের রায় চুরি করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছে। ক্ষমতায় বসে সরকার জণগণের আরেকটি রায় গণভোটের গণরায়কে উপেক্ষা করছে। এখনো সময় আছে, গণভোটকে মেনে নিন। না হলে জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে। কার্ডের রাজনীতি জনগণ বুঝে ফেলেছে, গণভোটের জনরায়কে উপেক্ষার ফল ভালো হবে না। জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখানোর আগে বলবো সরকার আপনারা সাত দফা মেনে নিন। আগামী সংসদ অধিবেশনের আগে আপনারা ঘোষনা দিন সাত দফা মেনে নিবেন। আর সাত দফা মেনে না নিলে বিরোধীদলীয় ১১ দলীয় জোট ১ দফা ঘোষনা করতে বাধ্য হবে। সাত দফার ওজন এক দফার চেয়ে হালকা। তাই সরকারকে বলবো অবিলম্বে সাত দফা মেনে নিন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার বলেন, লংমার্চে দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ এই বিশ্বাসঘাতক সরকারের জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি চায়। দলীয়করণ, চাঁদাবাজিতে জনগণের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জনগণ এই সরকারের কার্ডেয় খেলায় অতিষ্ঠ হয়ে সরকারকে লাল কার্ড দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, এই লংমার্চে লাখ লাখ মানুষের সম্পৃক্ততা প্রমান করে এই বিশ্বাসঘাতক সরকারের প্রতি মানুষের কোন আস্থা নেই। দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের রায় গণভোটকে অস্বীকার করে বিএনপি সরকার জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে। বর্তমান সরকার তার দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার নীতি ও আদর্শের সাথে বেঈমানী করেছে। ফলে এই সরকারকে আমরা বলে দিতে চাই, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার কারনে জনগণ সরকারকে লাল কার্ড দেখাবে- সেসময় বেশি দূরে নয়। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিরোধী দলকে কেবল নামেমাত্র সরকারের সমালোচনা করলে চলবে না; বরং কার্যকর ও বিকল্প সরকার হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। আপোষহীন হতে হবে। অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপোষের সুযোগ নেই। সমাবেশে হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, সুশাসন নিশ্চিত করার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। শুধু লোকদেখানো বিরোধিতা নয়, কোথাও কোনো অনিয়ম বা কারচুপি হলে তা শক্তহাতে ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আপোষকামী রাজনীতির দিন শেষ। কারচুপির ঘটনায় নমনীয় না হয়ে চোখে চোখে রেখে তার প্রতিবাদ জানাতে হবে। বিরোধী দলে থেকে কোনো ধরনের আপোষকামিতা বা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা জনগণ মেনে নেবে না। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, কেবল চেয়ার পরিবর্তন বা নির্বাচনই যথেষ্ট নয়; বরং পিএসসি, নির্বাচন কমিশন এবং ব্যাংক খাতসহ রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগুলোর আমূল সংস্কার করতে হবে। বর্তমান প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের ফিটনেস ও ইঞ্জিন ঠিক না করলে দেশ সঠিকভাবে এগোতে পারবে না। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে রক্ত দিয়েছে। এই প্রজন্ম শুধু রক্ত দিয়েই ক্ষান্ত হবে না, বরং নতুন বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে। বেকারত্ব দূরীকরণ ও সঠিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করলে জনগণ ফের রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর বাঘারপাড়া-অভয়নগর ও জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপির সভাপতিত্ব বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার, হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি, মাওলানা আজিজুর রহমান এমপি, ডাঃ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এমপি, মাওলানা মোক্তার আলী এমপি, অ্যাড. এনামুল হক এমপি, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব সাঈদ মোস্তাফিজ, মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, এলডিপির বিল্লাল হোসেন নিয়াজী, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চান, মুফতি শরাফত হোসেন, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ আবু জাফর সিদ্দিকী, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা বেলায়েত হোসেন, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি ভিপি আব্দুল কাদের, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আবুল হাশিম রেজা, এনসিপি সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান আজাদ, এলডিপি সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রিপন, এবি পার্টি জেলা আহবায়ক ইয়ামিনুর রহমান, এলডিপি সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম মিলন, বিডিপি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, যশোর সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আশরাফ আলী, ভারপ্রাপ্ত শহর আমীর মাওলানা ইসমাইল হোসেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতি রাশেদুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সালমা আক্তার আশা, ইসলামী ছাত্রশিবিরের শহর শাখার সভাপতি উবাইদুল্লাহ হুসাইন, যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি মিনারুল ইসলাম, জেলা পশ্চিম শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন, এনসিপির জেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান, জাতীয় ছাত্রশক্তি আহবায়ক খান মিফতাহুল অমিত প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক নুর ই আলী আল মামুন।