বিদায়ী বছরে যশোর ডিবি পুলিশের সাফল্য ছিল চোখে পড়ার মতো

এখন সময়: শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল , ২০২৪, ০৩:২২:১২ এম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সদ্য শেষ হওয়া বছরে যশোর ডিবি পুলিশের সাফল্য ছিলো চোখে পড়ার মতো। ডিবি পুলিশের চৌকশ কিছু অফিসার নেতৃত্ত্বে গঠিত একাধিক টিম উন্নত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ দমন ও অপরাধী আটক এবং উদ্ধার অভিযানে বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল। ভুক্তোভোগী মানুষের আস্থাও অর্জন করে পুলিশের এই গোয়েন্দা বিভাগটি।

২০২৩ সালে যশোর জেলা অর্ধশত খুনের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বেশ কয়েটি ছিল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। প্রায় সব গুলো খুনের মামলার আসামি আটকের ডিবি পুলিশ ছিলো বেশ তৎপর।

যশোরের বেনাপোলে ওমর ফারুক সুমনকে হত্যা এবং তার মরদেহ মাগুরা জেলা ফেলে আসে হত্যাকারীরা। এই মামলাটি তদন্ত করে ডিবি পুলিশ। তারা তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঢাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িতের আটক করে। সেই সাথে হত্যার পেছনের কারণ উদঘাটন করে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর যশোরের সাতমাইল এলাকার রেললাইনের পাশ থেকে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার দিড়য়াপুর গ্রামের আখি মনি নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথম ওই নারীর পরিচয় না পেলেও ডিবি পুলিশ তার পরিচয় উদঘাটন করে। এবং হত্যার দায়ের তার পালক পিতাকে আটক করে সাড়া ফেলে দেয়। গত ১৬ জুন মনিরামপুরের একটি মাছের আড়তের ম্যানেজার জসিম উদ্দিন যশোরে খুন হন। পরে পুলিশ ওই খুনের পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্ত করে।

গত বছরের শুরুতেই ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এরফান ফারাজীকে কারাবালা ধোপাপাড়ায় খুন করে সন্ত্রাসীরা। ওই মামলার আসামিরা হাতে হত্যা করে পালিয়ে গেলেও ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ আসামিদের আটক করে।

১৬ অক্টোবর মুজিব সড়কে রিপন হোসেন নামে এক লেদ মিস্ত্রি খুন হন। ওই খুনের মামলাটি তদন্ত ও আসামি আটকে ডিবি পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছিলো। যদিও মামলাটি তদন্ত করে পুরাতন কসবা ফাঁড়ির পুলিশ।

গত ১০ জুলাই সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে কচুয়ার বুলবুল হোসেন নামে এক ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার করে। সেই ঘটনার তদন্তেও ডিবি পুলিশ সাফল্য দেখায়।

মণিরামপুরের পাঁচাকোড়ি গ্রামের নওয়াল জামাল, অভয়নগরের জিয়াউর রহমান জিয়া হত্যাকারীদের আটক করে ডিবি পুলিশ।

হত্যা মামলার আসামি আটকের পাশাপাশি অস্ত্র গুলি উদ্ধারের বেশ তৎপর ছিলো ডিবি পুলিশ। ২০২৩ সালে এই বিভাগটি বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২০টি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই সময় উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৭শ’ গুলি। কিশোর অপরাধী দমনের তৎপরতার পাশাপাশি তাদের চাকুসহ আটকের সংবাদ ছিলো লক্ষ্যণীয়। এছাড়া, বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য, বাসাবাড়ি ও দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি হওয়া সোনার আলংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার, আসামি আটক, মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার, মোটরসাইকেল, ট্রাক, প্রাইভেটকার, ইজিবাইক, অটো রিকসা, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে এই সময়ে। চোরাচালান পণ্য উদ্ধার, শয়তানের নিশ্বাস খ্যাত বেশ কিছু অপরাধী, বিদেশি নাগরিকসহ বিভিন্ন প্রতারণা মামলার আসামি, নানা ধরনের বণ্য প্রাণী উদ্ধার, প্রতারক আটক করে বেশ দক্ষতার সাথে।

ডিবি পুলিশে এসআই রুপন কুমার সরকার বলেছেন, সারা বছরই ডিবি’র একাধিক প্রশিক্ষিত টিম নানা ধরনের অপরাধ দমনে তৎপর ছিলো। সারা যশোর জেলায় ছিলো ডিবির বিচরণ। নানা ধরনের সোর্স ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে ডিবি পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে তৎপরতা চালিয়েছে। ডিবির এই টিমটি আগামী বছরেও সকল ধরনের অপরাধ দমনে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে যাবে।