অসীম মোদক, মহেশপুর : মৌসুমের শুরুতে শীতের তেমন প্রকোপ না থাকলেও পৌষের মাঝামাঝি সময়ে এসে ঘন কুয়াশা শীতল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। আবার কিছু এলাকায় সূর্যের দেখা মিললেও নরম রোদের উত্তাপ হাড়ের কাঁপন কমাতে পারছে না। কনকনে ঠান্ডা ও শীতল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। কিন্তু যারা মাঠে সোনা ফলাবে তাদের স্থবিরতা নেই। হাড়কাঁপানো শীত যেনো তাদের শরীরে লাগছে না। ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত কৃষকেরা কাঁদা মাঠে নেমে ধান রোপন করে চলেছে। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে এবার বরো চাষে বড় ধরণের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২১ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে এবং প্রতি হেক্টরে গড়ে ৪.৪২ টন ফলনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ করে কৃষকরা জানান, পল্লী বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন লাইনের নির্মাণ ও মেরামত কাজের কারণে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট বোরো মৌসুমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় জমি প্রস্তুত,পানি সরবরাহ ও ধান রোপণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কনকনে শীত ও তীব্র শ্রমিক সংকট হাড় কাঁপানো শীতে মাঠে শ্রমিক মিলছে না, ফলে অনেক কৃষক নির্ধারিত সময়ে চাষবাদ করতে পারছে না। কৃষক মোস্তাফা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় হালচাষ ও সেচ বিলম্বিত হচ্ছে, এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। কৃষক লুৎফর মোল্লা বলেন, শীতের ভয়ে বসে থাকলে চলবে কি করে। আমরা এসময়ে বসে থাকলে আমাদের পরিবার ও দেশের মানুষের পেটে ভাত জুটবে কিভাবে ? অন্য এক কৃষক আবুল বাশার বলেন, মাঠ থেকে সেচ পাম্প চুরি, বিদ্যুৎ না থাকাসহ প্রচন্ড শীতের কারণে এবার বরো চাষে বড় ধরণের ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা অভিজিৎ শাহ জানান, আরএপি টেন্ডারের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বাস্তবায়ন করছে এবং পুরোপুরি বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। তবে এতসব প্রতিকূলতার মাঝেও থেমে নেই কৃষকের লড়াই মাঠজুড়ে চলছে বোরো ধান রোপণের ব্যস্ততা। উপজেলা কৃষি অফিসার ইয়াসমিন সুলতানা জানান, পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে, উন্নত জাতের বীজ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে এবং মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি চলছে। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রত স্বাভাবিক হলে সব বাধা কাটিয়ে এ বছর মহেশপুরে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।