মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: মণিরামপুর পৌরসভার হাট ইজারার দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির চার সদস্যের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার দুপুরে। সভায় মোট ১০ হাটের ইজাদারদের জমাকৃত দরপত্রের (সিডিউল) মধ্যে মাত্র দুইটি বহাল রাখা হয়েছে। পশুহাটসহ বাকী ৮টি হাটের জমাকৃত দরপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা না দেয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে। পুনঃদরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ১৬ মার্চ। তবে আলোচিত পশুহাটের সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা আহসান হাবিব লিটনের দরপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা না দেয়ায় সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দরদাতা বিএনপি নেতা ফয়জুল ইসলামের দরপত্রের সাথে সব ডকুমেন্ট জমা থাকলেও শুধুমাত্র তার ছবি সত্যায়িত না থাকায় তারটিও বাতিল করা হয়েছে। তবে ৭ কার্য দিবসের মধ্যে ইজাদারদের আপিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে। আর এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক পৌরসভার মূখ্য নির্বাহী অফিসার এসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন। পৌরসভা অফিস সূত্রে জানাযায়, এক বছর মেয়াদী পৌরসভার পশুহাটসহ ১০ টি হাট ইজারার জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ গতমাসে দরপত্র আহ্বান করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। ৪ মার্চ শেষ তারিখে পশুহাটের ৯টি দরপত্র (সিডিউল) বিক্রি হয়। ৫ মার্চ জমা হয়। পৌরসভার বিধান রয়েছে- দরপত্রের সাথে নির্ধারিত চাহিদা মোতাবেক সব কাগজপত্র জমা দিতে ব্যর্থ হলে সেটি বাতিল করার। দরপত্র যাচাই-বাছাই কালে দেখা যায় সর্বোচ্চ দরদাতা উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারী আহসান হাবিব লিটনের দাখিলকৃত দরপত্রের সাথে চাহিদা মোতাবেক ব্যাংক ষ্টেটমেন্ট, সত্যায়িত ছবি, নাগরিক সনদসহ অন্যান্য ডকুমেন্ট জমা দিতে ব্যর্থ হন। ফলে বিধান অনুযায়ি তাৎক্ষনিকভাবে তার দরপত্র বাতিল করে দ্বিতীয় দরদাতা পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ফয়জুল ইসলামের নামে হাট চুড়ান্ত ভাবে ইজারা দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ ওঠে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তা না করে জামায়াতের আহসান হাবিব লিটনকে ইজারা দেয়ার ষড়যন্ত্র করছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয় এবং প্রশাসন বেশ নড়েচড়ে বসেন। সূত্র জানায়, বিষয়টি জানাজানি হবার পর সোমবার রাতেই পৌর প্রশাসক ইউএনও সম্রাট হোসেন দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠন করেন। যার আহ্বায়ক করা হয় পৌরসভার মূখ্য নির্বাহী অফিসার সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনকে। অপর তিন সদস্য করা হয় পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী উত্তম মজুমদার, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ফয়সাল আহমেদ ও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রজিউল্লাহ খানকে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির আহ্বায়ক এসিল্যান্ড মাহির দায়ান আমিন জানান, মঙ্গলবার দুপুরে চার সদস্যের মূল্যায়ন কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মোট ১০ হাটের জমাকৃত সব দপরপত্র পুনরায় যাচাই-বাছাইকালে পশুহাটসহ ৮ হাটের দরপত্রের সাথে চাহিদা মোতাবেক ডকুমেন্ট জমা না দেয়ায় বাতিল করা হয়। দুইটি হাটের দরপত্র সঠিক থাকায় তাদেরকে কার্যাদেশ দেয়ার সুপারিশ করা হয়। আলোচিত পশুহাটের সর্বোচ্চ দরদাতা জামায়াত নেতা আহসান হাবিব লিটনের দরপত্রের সাথে প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট জমা না দেয়ায় সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় দরদাতা বিএনপি নেতা ফয়জুল ইসলামের দরপত্রের সাথে সব ডকুমেন্ট জমা থাকলেও শুধুমাত্র তার ছবি সত্যায়িত না থাকায় তারটিও বাতিল করা হয়েছে। পৌর প্রশাসক ইউএনও সম্রাট হোসেন জানান, দরপত্রে কোন প্রকার অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই। বরং দরপত্র শতভাগ সচ্ছতা করতে চার সদস্যের মূল্যায়ন কমিটি করা হয়। আর এ কমিটির সুপারিশ অনুসারে পরবর্তী কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরো জানান, বাতিলকৃত দরপত্রের ইজারাদারেরা বিষয়টি নিয়ে আগামি ৭ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক বরাবর আপিল করতে পারবেন।