নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর শহরের পুলিশ লাইন কদমতলা এলাকার ‘স্বপ্নপুরী’ নামক বাসার ভাড়াটিয়া ময়না বেগমকে পুলিশের সহায়তায় খুঁজে পেয়েছেন বাড়ির মালিক। পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি করে বাথরুমের বক্স ছাদের উপর থেকে ময়না বেগমকে উদ্ধার করেন। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা জানাজানির পর এলাকায় ব্যপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ না দেয়ায় ফিরে এসেছেন বলে জানান এসআই ওয়াহিদুজ্জামান।
বাড়ির মালিক আদ্ব-দীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার আফজাল হোসেন খান জানান, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করছেন সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি এলাকার দাউদ ইব্রাহিমের স্ত্রী ময়না বেগম। ৫ মাসের ভাড়াসহ তার কাছে ৩৬ হাজার টাকা পাওনা আছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে বাড়ির কাজ করার জন্য শ্রমিক পাঠানো হয়। শ্রমিকরা বাড়ির দরজা খুলতে ব্যর্থ হয়ে আমাকে বিষয়টি জানায়। আমি ওই বাড়িতে দিয়ে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোন সাড়াশব্দ পাইনি। বিষয়টি সন্দেহের হওয়ায় কোতয়ালি থানায় গিয়ে পুলিশে জানাই।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পুরাতনকসবা পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ওয়াহিদুজ্জামান এ বাড়িতে আসেন।
প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর ঘরের ভেতর থেকে প্রভা নামে এক নারী দরজা খুলে জানান, ভাড়াটিয়া ময়না বেগম বাসায় নেই। হাসপাতালে আছে এবং মূল ফটকের চাবি তার কাছে নেই। এ সময় বাড়ির মালিক নিজের কাছে থাকা চাবি দিয়ে মূল গেট খুলে সবাইকে নিয়ে যান। প্রভা নিজেকে চাঁচড়া রায়পাড়া এলাকার শাহজালাল ও ডালিম খাতুনের মেয়ে পরিচয় দেন। পুরাতন কসবার বাবুর সাথে বিয়ে হয়েছিল। এখন তালাক হয়ে গেছে। তিনি ময়না বেগমকে তার খালা বলে পরিচয় দেন।
পুলিশ তৎক্ষণিক ঘর তল্লাশি করে বাথরুমের বক্স ছাদের ভেতর থেকে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় ময়না বেগমকে উদ্ধার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ময়না বগেম জানান, গত রাতে প্রভার সাবেক স্বামী বাবু বাড়িতে এসে খুব বিরক্ত করেছে। আমরা দরজা খুলিনি। বাবু ফের লোকজন নিয়ে এসেছে ভেবে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে লুকিয়ে ছিলেন।
ঘটনার পর বাড়ির মালিক ডাক্তার আফজাল হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ময়না বেগমকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাকে এলাকা ছাড়ার জন্য তিনদিন সময় বেঁধে দেন।
এই বিষয়ে এসআই ওয়াহিদুজ্জামান বলেছেন- বাড়িতে গিয়ে জানতে পারি ওই নারী এক প্রকার ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন। বাড়ির মধ্যে কোন পুরুষ মানুষ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কোন তথ্য পাইনি। ফলে বাড়ির মালিক কোন লিখিত অভিযোগ না দেয়ায় সেখান থেকে চলে এসেছি।