নিজস্ব প্রতিবেদক : ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডোর (উইকেয়ার) ফেজ-১-এর আওতায় যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ চলছে। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই ছয় লেনের কাজের। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী লাখো মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ না হলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে চলমান প্রকল্পটির মেয়াদ নির্ধারিত রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে মেয়াদ শেষ হতে আর কয়েক মাস বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৪-৫ শতাংশ।
২০২০ সালের ২৪ নভেম্বর একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু হলেও এখনো মূল সড়কের উন্নয়নকাজ শুরুই করা যায়নি। বর্তমানে ঝিনাইদহ শহরের বাইপাসের চুটলিয়া মোড় এলাকায় ফ্লাইওভারের আংশিক কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া ধোপাঘাটা সেতুর জন্য গার্ডার নির্মাণ এবং কয়েকটি কালভার্টের আংশিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে সড়কের মূল অংশে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই।
মহাসড়কটি প্রকল্পের আওতায় যাওয়ার পর থেকে এর নিয়মিত সংস্কার বা মেরামতকাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে পুরো সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। ধুলাবালি আর ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে যান চলাচল হয়ে পড়েছে ধীরগতির ও ঝুঁকিপূর্ণ।
কালীগঞ্জ থেকে ঝিনাইদহগামী ইজিবাইক চালক আহমেদ শফিক বলেন, ‘সড়কের বেহাল দশায় প্রতিদিন যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করছে। আবার রাস্তা চরম খারাপ থাকায় ঝুঁকি নিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত পথ চলতে হচ্ছে।
যশোর ঝিনাইদহ সড়কের চুড়ামণকাটি এলাকার বাসিন্দা আসাদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাকে প্রতিদিন চাকরির সুবাদে ঝিনাইদহ যেতে হয়। বাসে উঠলে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। সারারাস্তা ভাঙাচোরা। এভাবে আর কতদিন চলতে হবে তার কোনো ঠিক নেই। সড়কে চলাচলকারী সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের ছয় লেন দরকার নেই, আগের দুই লেনই ভালো ছিল। আমরা শুধু ভালো রাস্তা চাই।’
ঝিনাইদহের সামাজিক সংগঠক কমরেড সুজন বিপ্লব অভিযোগ করে বলেন, ‘মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীতকরণের পরিকল্পনা থাকলেও এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া খুবই হতাশাজনক। গত তিন বছরে মাত্র ২ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমাদের ভিক্ষা চাই না কুকুর ঠেকা অবস্থা হয়ে গেছে।’
কাজের ধীরগতির বিষয়ে উইকেয়ার ফেজ-১-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় আমরা নির্ধারিত জায়গায় কাজ শুরু করতে পারছি না। যেসব স্থানে জমি বুঝে পেয়েছি, সেখানে আংশিক কাজ চলছে। জমি হস্তান্তর পেলে দ্রুতগতিতে বাকি কাজ এগিয়ে নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। কিছু জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হবে এবং প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু করা যাবে।’
যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার বলেন, ‘প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে। কিছু জটিলতা থাকলেও সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।