ফরহাদ খান, নড়াইল : গামছা ও তোয়ালে বিক্রির ২৩ হাজার টাকা এবং ৩৬টি গামছা চুরির ঘটনায় দিশেহারা বয়োবৃদ্ধ বিক্রেতা ! চোরের সন্ধানে ঘুরতে ঘুরতে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজ হোস্টেলের পাশের গলিতে মাথা ঘুরে পড়ে যান তিনি। এ ঘটনায় মাথা ও হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে নড়াইল জেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এর আগে নড়াইল সদরের গ্রামাঞ্চলের একটি মসজিদের পাশের পুকুরে গোসল করে নামাজ পড়ার পর দেখতে পান তার ২৩ হাজার টাকা এবং ৩৬টি গামছা খোয়া গেছে। গোসলের সময় ৩৬টি গামছার ব্যান্ডেলের সঙ্গে ২৩ হাজার টাকা রেখে দিয়েছিলেন তিনি। এমনটি দাবি করেন বয়োবৃদ্ধ এই বিক্রেতা। বিষয়টি জানার পর গ্রামাঞ্চলের ওই মসজিদের মুসল্লিরা আশেপাশে খোঁজখবর নেন। তবে, কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি। এরপর চোরের খোঁজে গ্রামাঞ্চলের ওই এলাকা থেকে ভুক্তভোগী মানুষটি পাগলের মতো ছুটতে থাকেন নড়াইলের পথে-প্রান্তরে। এক পর্যায়ে শনিবার বিকেলবেলা নড়াইল শহরের মহিলা কলেজ হোস্টেলের পাশের গলিতে মাথা ঘুরে পড়ে যান। স্থানীয় লোকজন এসে তাকে মাথায় পানি ঢেকে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। এরপর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। স্থানীয় লোকজন বয়োবৃদ্ধকে এক হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেন। তার বাড়ি মেহেরপুর জেলার দিকে বলে জানিয়েছেন। কিছুটা সুস্থবোধ করলে তিনি বাড়িতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করলে তাকে নড়াইল পুরাতন বাসটার্মিনাল চত্বর থেকে বাসে উঠিয়ে দেন স্থানীয় লোকজন। তিনি জানান, গরিব সংসারে তার চারটি মেয়ে আছেন। অভাবের তাড়নায় গামছা ও তোয়ালে বিক্রি করে কোনো মতে সংসার চলে তার। প্রায় এক মাস নড়াইলের বিভিন্ন এলাকায় গামছা বিক্রি করে আজই (শনিবার) তার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল। বয়োবৃদ্ধ মানুষটি শুক্রবার অন্যের মোবাইল ফোনে বাড়িতে খবর নিয়ে জানতে পারেন, টাকা না থাকায় চাল কিনতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। এরই মধ্যে তার ভাষ্যমতে, গামছা ও তোয়ালে বিক্রির ২৩ হাজার টাকা এবং ৩৬টি গামছা চুরির ঘটনায় সর্বশান্ত হলেন তিনি। এ ঘটনায় ধিক্কার এবং নিন্দা জানিয়েছেন সামাজিক ও মানবিক সংগঠন স্বপ্নের খোঁজে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মির্জা গালিব সতেজ, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, মোহাম্মদ মেজবাহ, কলেজ শিক্ষার্থী সুমাইয়াসহ উপস্থিত লোকজন। বিষয়টি পুলিশকে খতিয়ে দেখার দাবি করেন সবাই। ভুক্তভোগী গামছা বিক্রেতার দাবি সত্য হলে, চুরির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন উপস্থিত বিভিন্ন পেশার মানুষ।