স্পন্দন ডেস্ক: দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে সংবিধানের প্রতি অবিচল থাকার বার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও ক্ষমতার অপব্যবহার’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একটি ‘আধুনিক ও সময়োপযোগী’ সশ্স্ত্র বাহিনী গড়ে তুলতে বিএনপি সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন সেনা প্রাঙ্গণে সশস্ত্র বাহিনীর এক দরবারে তারেক রহমান নানা দিকনির্দেশনা দেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে বক্তব্য রাখলেন। সকালে ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে দরবারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান তার প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান। ‘সংবিধানের প্রতি অবিচল থাকবেন’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের সংবিধান, শপথ, শৃঙ্খলা এবং কমান্ডের প্রতি অবিচল থাকতে হবে। আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে, নিজেদের পেশাগত দক্ষতা ক্রমাগত উন্নয়ন, উন্নত করার কোনো বিকল্প নেই।” আধুনিক যুদ্ধ ক্ষেত্রে শুধু প্রযুক্তি নয়, কৌশল ও দক্ষতার গুরুত্ব তুলে ধরে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, এর জন্য সমন্বয় এবং কৌশলগত চিন্তাশক্তির সংমিশ্রণ থাকতে হবে অবশ্যই। “জনগণের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক হবে আস্থা বিশ্বাস ও গভীর দায়িত্ববোধের। এর ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে এক অটুট বন্ধন। এই বন্ধনই আপনাদের শক্তি এবং প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।” তিনি বলেন, “আমাদের মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক সশস্ত্র বাহিনীকে শুধু শেষ ভরসার আশ্রয়স্থল হিসেবেই দেখেন না। বরং সাহস, দৃঢ়তা এবং নির্ভরতার প্রতীক হিসেবেও তারা আপনাদেরকে দেখেন। “আপনাদের প্রতি জনগণের এই অকৃত্রিম আস্থা এবং ভালোবাসাই যেন আপনাদের অন্যতম চালিকাশক্তি ও অনুপ্রেরণা হয়।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা, অব্যবস্থাপনা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নিজেকে সর্বতভাবে বিরত রাখতে হবে। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে দেশের সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অপচয় রোধ করা আমাদের সবার নৈতিক এবং পেশাগত দায়িত্ব।” আন্তর্জাতিক অঙ্গন, বিশেষত শান্তিরক্ষা মিশনে দেশের মর্যাদাকে সবকিছুর ওপর স্থান দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, “কারণ আপনি সেখানে শুধুমাত্র একজন সৈনিক নন। বরং বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি।” তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে আমরা এমন একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যে বাংলাদেশ কারো আধিপত্য মেনে নেবে না, যে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মাত্রা নির্ধারিত হবে পাস্পরিক সন্মান, স্বার্থ এবং সমতার ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে সশ্স্ত্র বাহিনীর ভূমিকা অপরিসীম।” সশস্ত্র বাহিনী দেশপ্রেমে অনড় থাকলে আগামী দিনে বাংলাদেশ আরও নিরাপদ থাকবে, আরও মর্যাদাশীল হবে, এ বার্তা দিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করে বলতে চাই, সশ্স্ত্র বাহিনীকে আমরা একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বাহিনী হিসেবে গঠন করতে বদ্ধপরিকর।”