নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান রাখায় তিনজন সফল উদ্যোক্তাকে সম্মাননা জানানো হয়েছে। সোমবার বিকালে যশোর শহরের ভৈরব নদের পাড়ে চৈত্র সংক্রান্তি ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে এই তিন উদ্যোক্তার গলায় উত্তরীয় পরিয়ে ও হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দিয়ে সম্মান জানানো হয়। প্রথম আলো যশোর বন্ধুসভা এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। সম্মাননাপ্রাপ্ত তিন উদ্যোক্ত হলেন-কাগজের কলম তৈরির উদ্যোক্তা যশোর শহরের লোন অফিসপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাছিমা আক্তার, কাঠ শিল্পের উদ্যোক্তা সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুবোধ কুমার রায় ও কামারশালায় লোহার দা-বটি-কাচি তৈরীর সফল উদ্যোক্তা শহরের বারান্দি কদমতলা এলাকার বাসিন্দা তপন কর্মকার। বিকেল পাঁচটায় বাউল গানের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাউলীয়া সংঘ যশোরের শিল্পীরা বাউল গান পরিবেশন করেন। এরপর গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান শুরু হয়। যশোর চেম্বার অফ কমার্স ইন্ডাস্ট্রি সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রথম আলোর প্রতিনিধি মনিরুল ইসলামসহ অতিথিরা সম্মাননাপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেন। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন বন্ধুসভার সভাপতি লাকি রানী কাপুড়িয়া, বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক রাইয়াদ ফেরদৌস। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বন্ধুসভার বন্ধু দীপান্বিতা সিংহ রায়। উদ্যোক্তা তপন কর্মকার বলেন- ৪০ বছর ধরে আমি লোহা পিটিয়ে দা- বটি- খুনতা -কোদাল- কাচি তৈরি করছি। প্রান্তিক কাজ করি বলে আমাদের কেউ মূল্যায়ন করে না। প্রথম আলো বন্ধুসভা আমাকে যে সম্মান দিল তা হৃদয়ের মণি কোথায় রেখে দিলাম’। কাগজের কলম তৈরির উদ্যোক্তা নাসিমা আক্তার বলেন-‘ডেইলি স্টার পত্রিকা ঢাকায় নিয়ে আমাকে সম্মাননা দিয়েছে। কিন্তু যশোরের মানুষ আমাকে সম্মান জানায়নি। এ নিয়ে আমার অনেক কষ্ট ছিল। আজ সম্মাননা পেয়ে আমার সেই কষ্ট নিবারণ হয়েছে’। সম্মাননা শেষে বাউল গান পরিবেশন এর মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। অনুষ্ঠানের মাঝে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার মুড়ি মুড়কি, বাতাসা খই, নকুল দানা, কদমা দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত দর্শক শ্রোতাদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।