নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর চব্বিশ ঘণ্টা পার হতে চললেও কাটেনি তেলের সংকট। উল্টো যশোরের বাজারে ডিজেল ও পেট্রোলের হাহাকার তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে এই অঞ্চলের কৃষি, ব্যবসা এবং পরিবহন খাতে শঙ্কা নেমে এসেছে। ভোগান্তি কমাতে দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের সেই ‘পুরনো ভোগান্তি’ আগের মতোই রয়ে গেছে।
রোববার সকাল থেকেই যশোরের অধিকাংশ পাম্পে দেখা গেছে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পাম্পগুলোতে কয়েকশ মিটারের দীর্ঘ লাইন ডিঙিয়েও দুপুরের পর অনেকে তেল পাননি। অনেক পাম্প কর্তৃপক্ষ ‘তেল নেই’ বলে পাম্প বন্ধ রেখেছেন, যা সাধারণ চালকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মোটরসাইকেল চালক ও ট্রাকচালকদের অভিযোগ, দাম যখন কম ছিল তখনও তেল লুকানো হয়েছিল। এখন দাম বাড়ার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে।
শহরের গাড়ি খানা রোডে দুপুরে তেল কিনতে আসা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, ‘ভাবলাম তেলের দাম বেড়েছে সারাদিন পাম্প খোলা থাকবে। দুপুর দুটোর সময় এসেও দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্প থেকে বলছে তেল শেষ।’
যশোর জেলা মাছ, ফুল এবং সবজি উৎপাদনের জন্য সারাদেশে বিখ্যাত। এখান থেকেই প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কৃষি পণ্য রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। কিন্তু জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে চাকা। গাড়ি ভাড়া বেড়ে গেছে দুই গুণ।
বর্তমানে এ অঞ্চলে ভুট্টার মৌসুম চলায় মাড়াই কাজে ডিজেলের ব্যাপক চাহিদা। সোলাইমান হোসেন বলেন, ‘আমরা ভুট্টা মাড়াই মেশিন চালাচ্ছি যা পুরোপুরি ডিজেলে চলে। আগে ডিজেল পাচ্ছিলাম না বলে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। ভেবেছিলাম দাম বাড়লে হয়তো পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন দাম বেড়েও তেল মিলছে না। একদিকে উৎপাদন খরচ আকাশচুম্বী, অন্যদিকে সময়মতো কাজ করতে না পেরে এ বছর বড় ধরনের লোকসানের মুখে আছি।’
পরিবহন খাতেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে সরাসরি। সকাল থেকেই আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া বেড়ে গেছে। দূরপাল্লার বাস ভাড়া বৃদ্ধির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সকালে অনেক যাত্রী আগের ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারলেও রাত থেকে চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানিয়েছেন লিটন ট্রাভেলসের এক কর্মকর্তা।
রায়হান সিদ্দিকী নামে এক পরিবহন যাত্রী জানান,সকালে বাস ভাড়া বাড়েনি দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু বাসের স্টাফরা বলছে রাত থেকে ভাড়া বাড়তে পারে।
পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় যশোরের পাইকারি ও খুচরা বাজারে কাঁচামালসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সবজি ও মাছের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে গেছে।
ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বাবু বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ে দাম আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
যশোর পৌর নাগরিক কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান ভিটু বলেন- কেবল দাম বাড়িয়ে সংকট সমাধান সম্ভব নয়। তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করে দ্রুত বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করতে না পারলে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি ও বাণিজ্য খাত দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির সম্মুখীন হবে।