নিজস্ব প্রতিবেদক: ঝিকরগাছার পুরন্দপুর গ্রামের বিএনপি কর্মী সৈয়দ রবিউল ইসলাম হিরার মৃত্যুর সাড়ে ৫ মাস পর থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। বুধবার নিহতের চাচা নুরুজ্জামান বাবলা প্রতিবেশী স্বামী-স্ত্রীকে আসামি করে এ মামলা করেছেন। আসামিরা হলো, নিহতের প্রতিবেশী রেজাউল ও তার স্ত্রী রেবেকা। মামলার অভিযোগে জানা গেছে, বিএনপি কর্মী হিরা ছাগলের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার স্ত্রী চাকরি করায় ছেলেকে নিয়ে শ্বশুর বাড়িতে থাকত। মাকে নিয়ে হিরা বাড়িতে বসবাস করতেন। প্রতিবেশী রেজাউলের সাথে বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল হিরার। রেজাউল আওয়ামী লীগ করায় প্রায় সময় হিরাকে খুন জখমের হুমকি দিত। ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর বোনের অসুস্থতার কারণে তার মা বোনের শ্বশুর বাড়ি চলে যান। হিরা একাই বাড়িতে ছিলো। ১৯ নভেম্বর সকালে গাছের ডাল কাটা নিয়ে আসামি রেজাউল ও তার স্ত্রীর সাথে হিরার বাকবিতন্ডা হয়। রাতে হিরাকে রাস্তায় একা পেয়ে তারা তাকে ইট দিয়ে মারপিট করে। এরমধ্যে হিরা দৌড়ে তার ঘরের মধ্যে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। জনৈক মোস্তাফিজুর রহমান ২১ নভেম্বর সন্ধ্যায় ভোট চাইতে হিরার বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করে না পেয়ে টিনের দরজার ফাঁক দিয়ে মোবাইলের আলো দিয়ে দেখেন মেঝেতে হিরা পড়ে আছে। তখন তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে দরজা ভেঙে হিরার মরদেহ উদ্ধার করে। এ সংবাদ পেয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতারা তার বাড়িতে আসেন এবং পুলিশ সংবাদ পেয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় ঝিরকরগাছা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়। হিরার ময়নাতদন্ত রিপোর্টে বুকে আঘাতের কারণে ওই রাতে তার মৃত্যু হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে এ রিপোর্ট পেয়ে নিহতের চাচা থানায় এ হত্যা মামলা করেছেন।