ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন অসম্প্রদায়িক। তিনি সাম্প্রদায়িকতাকে এড়িয়ে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করে গেছেন। বিভিন্ন দেশে এবং স্থানে দেখা যায়, নানা সম্প্রদায়ের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার ছাপ। কিন্তু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন লেখনিতে এর কোন চিহ্ন ছিল না। যার ফলে তিনি বিশ্বে অসাম্প্রদায়িক কবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তি, মানবতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্বের অনন্য প্রতীক এবং তাঁর সাহিত্য মানবতার পথচলায় উজ্জ্বল আলো। রবীন্দ্রনাথ শুধু বাংলার কবি নন, তিনি ছিলেন বিশ্বমানবের কণ্ঠস্বর। তাঁর লেখনীর ছোঁয়ায় বাংলার মাটি, মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ যেমন জীবন্ত হয়ে উঠেছে, তেমনি বিশ্বমানবতার চিরন্তন আহ্বানও প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি আরো বলেন-কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যকে কখনো নিছক বিনোদনের উপকরণ হিসেবে দেখেননি। তাঁর কলম সবসময় অন্যায়, অবিচার, হিংসা ও সংকীর্ণতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষায় উচ্চারিত হয়েছে। মানুষের মুক্তচিন্তা, সাম্য ও সম্প্রীতির পক্ষে তিনি আজীবন ছিলেন সোচ্চার। তাঁর কবিতা, গান, গল্প ও প্রবন্ধে বারবার ফুটে উঠেছে মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং এক শান্তিময় পৃথিবীর স্বপ্ন। শনিবার বিকালে খুলনা ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মিজ কানিজ ফাতেমা লিজা ও খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মোস্তফা সরোয়ার। ‘রবীন্দ্রনাথ ও অসাম্প্রদায়িকতা’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আনিচ আর রেজা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খুলনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান আরিফ ও রহমতুল্লাহ। পরে অনুপম মিত্রের পরিচালনায় বিভিন্ন শিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।