Ad for sale 100 x 870 Position (1)
Position (1)

৮৮ বছরের রেকর্ড ভেঙে ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন কেরু অ্যান্ড কোম্পানীর

এখন সময়: বুধবার, ১৩ মে , ২০২৬, ০৪:৫৮:১৮ পিএম

দামুড়হুদা প্রতিনিধি : এশিয়া মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিশিল্প প্রতিষ্ঠান কেরু অ্যান্ড কোম্পানী (বাংলাদেশ) লিমিটেড। এ প্রতিষ্ঠান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৯০ কোটি টাকা রেকর্ড পরিমান মুনাফা অর্জন করেছে। যা প্রায় নয় দশকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধাজ্ঞা ও চড়া মুনাফার সুবাদে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানের ডিস্টিলারী বিভাগ দারুণ সাফল্য পেয়েছে। যা কোম্পানিটির মুনাফা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।
লোকসানি চিনি ইউনিটের ৬২ কোটি টাকা লোকসান সমন্বয় করার পরও কেরুর সমন্বিত নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১২৮ কোটি টাকা। যা পূর্বের বছরের তুলনায় ৫৪ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের চেয়ে শুধু ডিস্টিলারি ইউনিট থেকেই মুনাফা অর্জনে প্রায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। এ থেকেই স্পষ্ট, মদের ব্যবসাই এখন কোম্পানীটির মূল আর্থিক চালিকাশক্তি।
তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিস্টিলারীটির মোট আয় ২ শতাংশ কমে ৪৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মূলত গত বছরের জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে উৎপাদন ও মদের ব্যবহার কমে যায়।
তা সত্ত্বেও এই পরিসংখ্যান গত দুই বছরের কাছাকাছি। কোম্পানীটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে ২০২৫-২৬ অর্থবছরসহ টানা তিন বছর ধরে ডিস্টিলারী ইউনিটটি ধারাবাহিকভাবে ৪০০ কোটি টাকার বেশি মোট রাজস্ব ও ১০০ কোটি টাকার বেশি নিট মুনাফা অর্জন করেছে। এই ইউনিটে প্রায় ৮ ধরনের মদ উৎপাদন হয়।
মুনাফার পাশাপাশি রাজস্ব বৃদ্ধির তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় ২০১৯ অর্থবছর থেকে শুরু করে গত সাত বছরে প্রতিবারই মুনাফার ক্ষেত্রে আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে কেরু। ডিস্টিলারি ইউনিটের নিট মুনাফার হার ৪৫ শতাংশ। অন্যদিকে চিনির ব্যবসা এখনও অলাভজনক রয়ে গেছে।
নিট মুনাফার মার্জিন একটি কোম্পানির লাভজনকতা নির্দেশ করে। সব খরচ বাদ দেয়ার পর মোট রাজস্বের কত শতাংশ মুনাফা হিসেবে থাকে তা উঠে আসে নিট মুনাফায়। নিট মুনাফার হার বেশি হলে সেটি কোম্পানির দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতার পরিচায়ক। এর অর্থ কোম্পানী তাদের বিক্রি থেকে বেশি আয় ধরে রাখতে পারছে।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ও ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু অ্যান্ড কোং (বাংলাদেশ) মূলত একটি চিনিকল পরিচালনা করে। এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি দর্শনায় অবস্থিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিস্টিলারিতে চিনির উপজাত ঝোলাগুড় থেকে স্থানীয়ভাবে অ্যালকোহল তৈরি করে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি আখ থেকে চিনি তৈরির পর অবশিষ্ট অংশ বা ছোবড়া থেকে জৈব-সার উৎপাদন করে। কোম্পানীটির বাণিজ্যিক খামার ও একটি ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটও রয়েছে।
কেরু’র কর্মকর্তারা জানান, ২০২১ সালে সরকার বিদেশি মদ আমদানিতে বিধিনিষেধ কঠোর করার পর থেকে কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা বেড়েছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কেরুকে তার সক্ষমতা ও উৎপাদন দুটিই বাড়াতে হয়েছে।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘কোম্পানীর ইতিহাসে ডিস্টিলারী ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আর কখনও হয়নি। বিদেশি মদ আমদানিতে কঠোর বিধিনিষেধের কারণে দেশে উৎপাদিত কেরু ব্র্যান্ডের মদের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আমাদের উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু ডিস্টিলারী ইউনিটই নয়, কেরু’র অন্যান্য ব্যবসায়িক বিভাগ-খামার, জৈবসার ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটগুলোও এ বছর ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা করেছে।’
অধিক মুনাফা সত্ত্বেও বিক্রি কমে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে বিক্রি কিছুটা কমে গিয়েছিল। তবে বছরের শেষের দিকে তা আবার বাড়ে। যা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়।
রাব্বিক হাসান আরও বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও ডিস্টিলারী ইউনিটের বকেয়া পাওনা আদায়ের মতো বেশ কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি। এছাড়া গত বছর আমরা মদের দামও বাড়িয়েছি।’
চিনি ইউনিটের জন্য ১০২ কোটি টাকার বিএমআরই প্রকল্প মদ থেকে বিপুল মুনাফা এলেও কেরু’র চিনি উৎপাদন কার্যক্রম কেরু’’র আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬২ কোটি টাকারও বেশি লোকসানের ফলে এর মোট পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ৯৩১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
কেরুর সুযোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান যোগদানের পর থেকে চিনিকলটির সব বিভাগ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। চিনি বাদে সব বিভাগে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আখ মাড়াই করে উৎপাদিত চিনিতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এর সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ চিনি ইউনিটের লোকসানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ‘তিনি আরও বলেন, আগামী বছর বিএমআর প্রকল্প চালু হয়েছে। আমরা গত বছরের তুলনায় লোকসান কোমাতে পারবো বলে আশা করছি।

Ad for sale 100 x 870 Position (2)
Position (2)
Ad for sale 225 x 270 Position (3)
Position (3)
Ad for sale 225 x 270 Position (4)
Position (4)