শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) : দারিদ্র্যের সংসারে একটু স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে প্রায় এক দশক আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের যুবক ইসমাইল হোসেন (৩৫)। পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে কঠোর পরিশ্রমে দিন কাটছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস- সেই প্রবাস জীবনের স্বপ্ন শেষ হলো এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। অবশেষে জীবিত নয়, কফিনবন্দি লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন তিনি। ইসমাইল হোসেন কাশিপুর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও প্রায় দেড় বছর বয়সী একমাত্র কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। স্বজনরা জানান, সংসারের অভাব-অনটন দুর করতে প্রায় ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যান ইসমাইল। সেখানে পেনাং শহরের একটি কোম্পানিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। গত ৬ মে সোমবার সকাল ১০টার দিকে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবনে কাজ করার সময় কাঁচি লিফট ছিঁড়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। টানা কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে গত ১৩ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইসমাইল। প্রবাসে মৃত্যুর খবরে গ্রামের বাড়িতে নেমে আসে শোকের ছায়া। অপেক্ষা ছিল শুধু শেষবারের মতো প্রিয় মানুষটিকে দেখার। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ইসমাইলের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। রাতেই স্বজনরা ঢাকার বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। বৃহস্পতিবার সকালে মৃত্যুর সাতদিন পর কফিনবন্দি ইসমাইলের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্ত্রী, মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। ছোট্ট মেয়েটি বুঝতেই পারেনি, যার অপেক্ষায় ছিল সে- সেই বাবাই আজ নিথর হয়ে ফিরেছেন। পরে সকাল ১০টার দিকে নিজ বাড়িতে বেদনাবিধুর পরিবেশে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে অশ্রুসিক্ত নয়নে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। স্থানীয়রা জানান, ইসমাইল ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ। পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে কাজ করলেও শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।