নিজস্ব প্রতিবেদক : ষাটোর্ধ্ব জেসমিন বেগম। যশোর শহরের তেঁতুলতলা এলাকার এই বাসিন্দার গত চার মাস ধরে চোখে ঝাপসা দেখেন। হঠাৎ করেই দুই চোখ দিয়ে পানি ঝরেছে তার। স্বামী সন্তান বেঁচে নেই। বিনা মূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ক্যাম্পের কথা শুনে তিনি হাজির হন। সেবা নিয়ে ফেরার পথে জেসমিন বেগম বলেন, ‘কয়েক মাস দুই চোখে খুব জ্বালাযন্ত্রণা করছে। ড্রপ দিয়েও কাজ হচ্ছে না। ডাক্তার দুই চোখ পরীক্ষার পর ওষুধ লিখে দিয়েছেন। ওষুধও ফ্রি পেয়েছি। ডাক্তার বলেছে কয়েকদিন পর এক চোখে আমেরিকান লেন্স লাগিয়ে দিবে।’
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত যশোরে ষাটোর্ধ্ব নারীদের বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের জয়তী সোসাইটির মিলনায়তনে এই ক্যাম্পের আয়োজন করে আমেরিকার সাহায্য সংস্থা ইকো। ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এই ক্যাম্পে জেসমিনের মতো হতদরিদ্র দেড়শ’ ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা পেয়েছেন চক্ষু চিকিৎসা। যার মধ্যে ৩৫ জনকে ছাঁনি অপারেশন করে আমেরিকান লেন্স লাগানো হবে আজ শনিবার। চিকিৎসা দিয়েছেন বাংলাদেশ চক্ষু বিজ্ঞাণ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক চিকিৎসক যশোরের স্বনামধন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদুর রহমান।
সেবা পেয়ে খুশি নাজির শংকরপুর এলাকার তাসলিমা বেগম। ৭০ বছর বয়সী নারীর স্বামী মারা গেছে তিন বছর আগে। এই নারী বলেন, ‘ছেলেরা দেখলেও তাদের অবস্থা দিন এনে দিন খাওয়ার মতো। ফলে আমার রোগ বালাইয়ে তেমন চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারেন না। অনেকদিন ধরে চোখে যন্ত্রনা করে। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছি না। তবে আজকের ক্যাম্পে ফ্রি চিকিৎসা দিয়েছে। ওষুধও দিয়েছে। দ্রুত উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।
শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, চক্ষু ক্যাম্পে প্রবেশের পর সেবাপ্রার্থীদের ক্রমিক নম্বর দিয়ে নির্দিষ্ট কক্ষে পাঠানো হচ্ছে। এসব কক্ষে টেকনিশিয়ান ও রিফ্রেকশনিস্টরা রোগীর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন। এরপর চিকিৎসক ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছেন। ওই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে একটি নির্দিষ্ট বুথ থেকে তারা বিনা মূল্যে ওষুধ নিচ্ছেন। ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রোকেয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘এখানে টাকা ছাড়াই চিকিৎসাও করাতে পারছি। আবার ওষুধও দিয়ে দিছে। খুব উপকার হইল।’
এর আগে ক্যাম্পের উদ্বোধনকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম বলেন, ইকো সব সময় মানবিক কাজ করে যাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের কল্যাণে ইকোর মতো অন্যান্য সংগঠন বা বৃত্তবানদের এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে আমাদের দেশে বঞ্চনা থাকবেনা। ইকো উচ্চ শিক্ষায় বৃত্তি দিয়ে থাকে। দরিদ্র মানুষদের উন্নমানের খাবার খাওয়ায়। ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেয়। যা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেণ, ‘বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতি করে না। মানবসেবা ও দেশের জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য রাজনীতি করে। বিএনপি সরকার পিছিয়ে পড়া, হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে নানামুখি কল্যাণকর উদ্যোগ নিয়েছে। ধনী গরিব সবাইকে সাথে সাথে বৈষম্যহীন একটা দেশ বিনির্মাণে সরকার কাজ করছে।’
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত চক্ষু ক্যাম্পের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোগ্রামার আরিফ নূর, যশোর পৌরসভার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছুর রহমান মুকুল, যশোর নগর মহিলা দলের সভাপতি শামসুর নাহার পান্না ও জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস।
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, ইকো সমাজের পিছিয়েপড়া হতদরিদ্রদের জনগোষ্ঠির জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, খাদ্য, কর্মসংস্থান উপযোগী দক্ষতামূলক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানে সহযোগীতা, সম্বলহীনদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদান করছে।